প্রকাশ: সোমবার, ১৬ জুন, ২০২৫, ৯:৫৩ পিএম

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে জমির বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের আঘাতে বাদশা মিঞা(৬০) নামে এক বৃদ্ধ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তার স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূসহ একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
আজ সোমবার দুপুর ২ টায় বাদশা মিঞা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে মো: সইজ উদ্দিন ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২/৩ জনকে আসামি করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টার দিকে দেবীগঞ্জ উপজেলার টেপ্রীগঞ্জ ইউনিয়নের নাটকটোকা (ডাকুয়াপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়ির আঙিনায় বাদশা মিয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাঁশের বেড়া দেওয়ার কাজ করছিলেন। এ সময় প্রতিবেশী রুহুল আমিন (৩০), রবিন ইসলাম (২৫), হাফিজ উদ্দিন (৫৮), রুবিনা বেগম (৫৫) ও আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ধারালো বাঁশিলা, মাছ ধরার লোহার খোঁচা ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।
এ সময় বাদশা মিঞার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয় এবং হামলায় বাদশা মিয়া গুরুতর আহত হন।এছাড়াও বাদীর ভাই সুলতান আলীর কোমরে আঘাত করে মেরুদণ্ড ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। আরেক ভাই সমশের আলী ও ভাবী লিপি বেগমকেও কুপিয়ে জখম করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় লিপি বেগমের শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে। বাদীর মা শেফালী বেগমকেও লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ জুন দুপুর ২টার দিকে বাদশা মিয়া মারা যান।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোয়েল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মামলার এজাহার পেয়েছি, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”