
জৈষ্ঠের শেষে সূর্যের প্রচন্ড উত্তাপ যেন বিপন্ন করে তুলেছে জনজীবনকে। পঞ্চগড়সহ উত্তরাঞ্চলে চলমান তাপপ্রবাহের কারনে বাড়ছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও পেটে ব্যথা জনিত বিভিন্ন রোগ।রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালে ঠাই হচ্ছে না অনেকের।
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখা যায়, পঞ্চাশ শয্যার একটিও খালি বেড নেই। এর বাইরে ও হাসপাতালে রয়েছে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়।
শিশুদের মধ্যে ভাইরাস জনিত ডায়রিয়া ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। এছাড়া বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ জ্বর, মাথা ঘোরা, পেটেব্যথাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ডাক্তারের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
সেবিকারা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে তারা হিমশিম খাচ্ছেন।
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাদমান সাকিব বলেন, প্রতিনিয়ত জ্বর; ডায়রিয়া; পেট ব্যথা নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। বিশেষ করে কদিন যাবৎ মৌসুমি ফল আম, লিচু খেয়ে তীব্র পেটে ব্যাথা নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীর সংখ্যা লক্ষ্যণীয় মাত্রায় বেড়েছে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু অসাধু মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী কেমিক্যাল ব্যবহার করছে। এবং এসব কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল খাওয়ায় পেট ব্যাথা সহ নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ্যণীয়। আমরা রোগীদের এবিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেই। তিনি এই তীব্র গরমে কোরবানি গোশত খাওয়ার ব্যাপারে অতিরিক্ত তেল-চর্বি পরিহার করতে পরামর্শ দেন।
তীব্র গরমের সময়কে মোকাবিলা করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিবেশের তাপমাত্রা উঠানামার কারণে পরিবেশে বাস করা কতগুলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া সক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে দেখা যায় ভাইরাসজনিত কারণে নিউমোনিয়া; ডায়রিয়া এবং বড়দের ডায়রিয়াসহ জ্বর সর্দি বেড়ে যায়। ভ্যাপসা গরমে মানুষ অনেক ক্ষেত্রেই সামনে পাওয়া পানি পান করে পিপাসাকে নিবৃত করে। ফলে পানিবাহিত ও খাদ্য বাহিত রোগ ডিসেন্ট্রি; জন্ডিস; টাইফয়েড এবং অপরিশুদ্ধ পানিতে থাকা ময়লার কারণে ফুড পয়জনিং হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে ঘাম দিয়ে শুরু হলেও পানিবাহিত রোগ, হিটস্ট্রোক এবং কিছু ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে থাকে।
বোদা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাহিদ হাসান বলেন, অতিরিক্ত গরমে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, প্রয়োজন ছাড়া কারোই বাইরে যাওয়া উচিত নয়। এসময় প্রচুর পরিমাণ পানি, ওরস্যালাইন ও তরল খাবার গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে প্রচন্ড গরমে ক্রেতা সংকট চরমে উঠেছে বলে জানাচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা। বোদা বাজারের কম্পিউটার, নগদ,বিকাশ ও ফটোকপি ব্যাবসায়ী মামুনুর রশীদ দুলু জানান, অতিরিক্ত গরমে রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনা, বাইরে মানুষ ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারছেনা ফলত ব্যবসা বাণিজ্যে যার প্রভাবে তীব্র মন্দা ভাব চলছে।
পঞ্চগড়ের তেতুলিয়ায় অবস্থিত আবহাওয়া অফিস বলছে, গেল কয়েকদিন ধারাবাহিক ভাবে একটু একটু করে দিনের বেলা তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল ৬ টা পর্যন্ত তাপমাত্রা ছিলো ৩৬.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা পূর্বের দিনের তুলনায় ০.৯ ডিগ্রী সেলসিয়াস বেশি। এবং আগামী ১৪ তারিখের পর হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে বলেও আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়।