প্রকাশ: শনিবার, ৩১ মে, ২০২৫, ৮:০৬ পিএম

দুই স্ত্রীর মতবিরোধ থাকায় মৃত্যুর ২১ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিভিন্ন আইনী প্রশ্ন ও জটিলতায় এখনো দাফন করা সম্ভব হয়নি আব্দুর রহমান নামে নিহত এক ব্যক্তির লাশ। ১ম স্ত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের বিজয়নগর এলাকার আব্দুর রহমান(৭০) নামে এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন। আব্দুর রহমানের ১ম স্ত্রী রহিমা খাতুন স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ থাকায় একই দিন চারজনকে বিবাদী করে দেবীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
রহিমা খাতুনের অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়, ১ম স্ত্রী রহিমা খাতুনকে বিয়ে করার ১৫ বছর পর আব্দুর রহমান ২য় স্ত্রী হিসেবে নাসিমা বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ১ম স্ত্রীর সাথে তাদের দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। একারণে রহমান দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে একই উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বিজয়নগর এলাকায় বাড়ি তৈরি করে দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথেই স্থায়ী ভাবে থাকতেন। সম্প্রতি আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন জমি রেজিস্ট্রি করে নিতে দ্বিতীয় স্ত্রী ও সন্তানরা নানা ভাবে চাপ প্রয়োগ করেছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কয়েক দিন থেকে আব্দুর রহিমের বাড়ি থেকে ঝগড়ার আওয়াজ আসছিল। শুক্রবার সকাল ১১টায় আব্দুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি ২য় স্ত্রীর ছেলে আবু নাসিম মোবাইলে ১ম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসাইনকে জানায়। খবর পেয়ে রহিমা খাতুন ছেলে বেলাল ও আরো দুই মেয়েকে সাথে নিয়ে বিজয়নগরের বাড়িতে আসেন। বাড়িতে আসার পর আব্দুর রহমানের বাম হাতে, কপালে এবং মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়ায় স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি মর্মে তারা অভিযোগ করেন। তাদের দাবি, গোসল শেষে কাফনের কাপড় পরানো হলেও লাশ থেকে রক্ত ঝরছিল।
১ম স্ত্রী ও সন্তানেরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের দাবি জানান এবং লাশ দেবীগঞ্জ থানায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু ২য় স্ত্রীর মেয়ে জামাই মোমিনুর ইসলাম মোমিন ময়নাতদন্ত থামাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রথম স্ত্রীর ছেলে সাজেদুর রহমান বলেন, "আমার বাবার শরীরের বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন আছে। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। গতকাল থেকে লাশ থানায় পড়ে আছে অথচ এখনো ময়নাতদন্ত হচ্ছে না। আজকে এসআই নাসিম আমাদেরকে ডিসি স্যারের কাছে যেতে বলেছিল। তাই আমরা চারজন পঞ্চগড় গেছি। আমাদেরকে এডিসির রুমে নিয়ে গেছে কিন্তু আমার কোন জবানবন্দি নেয়নি। সুরতহাল রিপোর্টে স্বাক্ষর চেয়েছিলো, আমি স্বাক্ষর দেইনি"।
দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তদন্ত (ওসি) সোয়েল রানা বলেন, "যেহেতু আব্দুর রহমানের মৃত্যু নিয়ে প্রথম স্ত্রী ও তার সন্তানদের অভিযোগ আছে। সেজন্য বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল করা হয়। আজ বিকাল সাড়ে পাঁচটায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে"।