
গাজীপুরের কাপাসিয়ার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষ। এ ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর স্বামী পনির হোসেন।
অভিযুক্তরা হলেন- ১। শহিদুল্লাহ (৪৫), পিতা-আবুল কাশেম, ২। দেলোয়ার হোসেন বাদল (৫২। পিতা-আবুল কাশেম, ৩। রাতুল (২২), পিতা-শহিদুল্লাহ, ৪। কামরুজ্জামান শামীম (৪০), পিতা-মজিবুর রহমান, ৫। মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮), পিতা-মজিবুর রহমান, সর্ব সাং-কামরা, থানা-কাপাসিয়া, জেলা গাজীপুর।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধে দখলীয় সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করে বিবাদী পক্ষ। এতে বাদীপক্ষ বাধা প্রদান করিলে মারপিটসহ খুন জখম করার হুমকি দেয়। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে ইহাতে বিবাদীগন আমাদের উপর আরও বেশী ক্ষিপ্ত হইয়া গত ০৯/০৫/২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ৭ টায় উক্ত বিবাদীগন দা, লাঠি, লোহার রড, শাবল, ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রে শস্ত্রে সজ্জিত হইয়া বেআইনি জনতাবদ্ধে আমাদের বসত বাড়ীতে অনধিকার প্রবেশ করিয়া আমাদের পরিবারের সদস্যদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করিতে থাকে। এসময় বৃদ্ধ মা সমোলা বেগম (৬৫), স্ত্রী মারুফা (২০) (চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা) দ্বয় প্রতিবাদ করিলে বিবাদীগন তাদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ি ভাবে কিল ঘুসি মারিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। একপর্যায়ে ১নং বিবাদী শহিদুল্লা তার হাতে থাকা লাঠি দিয়া আমার মায়ের কোমরে বারি মারিয়া গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম করে। ৩নং বিবাদী রাতুল তার হাতে থাকা লাঠি দিয়া বৃদ্ধ মাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বারিয়া ফোলা জখম করে, স্ত্রী মারুফা মাকে রক্ষা করার চেষ্টা করিলে বিবাদী কামরুজ্জামান শামীম স্ত্রী মারুফার চুলের মঠি ধরিয়া টানা হেচড়া করিয়া মাটিতে ফেলে জখম করতঃ পরিহিত ম্যাক্সি টানিয়া ছিড়িয়া শ্লীলতাহানি ঘটায়। এ সময় বিবাদী কামরুজ্জামান শামীম স্ত্রী মারুফার ডান হাতে থাকা একটি আইফোন-15 pro Max মোবাইল, যার সিম নং-019057622446 মূল্য ২,৫৬,৫০০/- টাকা ছিনিয়া নিয়া যায়। মা ও স্ত্রীর ডাক চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন আসিয়া উদ্ধার করে। বিবাদীগন আমাদের বসত বাড়ীর টিন বেড়া ও ইটের বাউন্ডারী এবং রান্না ঘর ভাংচুর করিয়া অনুমান ১,০০,০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়া চলিয়া যায়। স্থানীয় লোকজনদের সহায়তায় সহায়তায় মা ও স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন বাদল বলেন, অভিযোগকারীরা আমার প্রতিবেশী। তাদের সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। মারামারির ঘটনা সঠিক নয়। আমি তাদেরকে নিয়ে জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করে ফেলবো।
প্রবাসী পনির হোসেন বলেন, আমার প্রতিপক্ষরা জোর পূর্বক সরকারি গুহালট বন্ধ করে স্থাপনা করাতে এলাকার সাধারণের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড স্যারের কাছে লিখিতো অভিযোগ দিয়েছি, আশা করি ন্যায় বিচার পাবো।
এ বিষয়ে পুলিশ উপরিদর্শক মোসলেম উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।