প্রকাশ: রোববার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৬:৩৩ পিএম

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দীর্ঘদিন থেকে বেহাল অবস্থা পড়ে রয়েছে রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বন্দের মোড় থেকে পশ্চিম দিকে আনন্দ বাজার ভায়া তেলির মোড় রাস্তার ২ হাজার মিটার রাস্তাটি। দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির পর সংস্কার কাজ শুরু হওয়ায় এই সড়কের চলাচলকারীরা একটু স্বস্তি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন টেকেনি, রাস্তা সংস্কার কাজ এখন অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
ঠিকাদারের গাফিলতি আর কর্তৃপক্ষের অবহেলায় দীর্ঘ ১ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে উন্নয়ন কাজ এতে দুর্ভোগের শেষ নেই সাধারণ মানুষের। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কাজাইকাটা, চর কাজাই কাটা, শান্তির চর, খরানিয়ার চর, ফুলকার চর, সোনাপুর, গেন্দার আলগসহ ২৫ গ্রামে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তাটি উন্নয়ন করন করার জন্য পুরাতন হেরিং তুলে নতুন করে কার্পেটিং করার জন্য কাজ শুরু করে মেসার্স ফোর কিংব্রাদার্স ঠিকাদার মন্ডলপাড়া রৌমারী। পরে রাস্তায় খোয়া ফেলে দীর্ঘ ১ বছর থেকে কাজ বন্ধ থাকে। কাজবন্ধ থাকায় কোন সস্কার না করায় বাতাসে খোয়ার রাভিষ উড়ছে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। বালি আর ধুলা মাখা পথ দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই চলছে মালবাহী পরিবহন সহযাত্রী বহনকারী ছোট বড় গণপরিবহন। সড়কের পাশের সব গাছপালা ইতোমধ্যেই নষ্ট হয়ে গেছে। ঘর-বাড়িগুলো ধুলায় ঢাকা পড়েছে। সড়কের ধুলার কারণে একদিকে যেমন যানচলাচলের বিঘ্ন সৃিষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে পরিবেশ গত ভাবে নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে সড়কের ধারে বসবাস করা স্থানীয়দের। সব চাইতে ক্ষতি হচেছ স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২-২৩ ইং অর্থ বছরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের-৩ এর আওতায় ২ হাজার মিটার কাজের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা। ট্রেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পায় মেসার্স ফোর কিংব্রাদার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সুজাউল ইসলাম সুজা। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে কাজটি শুরু করেন। প্রকল্প টি হচ্ছে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বন্দের মোড় থেকে পশ্চিম দিকে আনন্দ বাজার ভায়া তেলির মোড় রাস্তা । নির্মাণ কাজটি শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে। কিছুদিন কাজ করার পর ঠিকাদারের গাফলতির কারনে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক ও আমিনুল ইসলামসহ পথচারী ও গাড়ির চালকরা জানান, এই সড়কটি রৌমারীর অন্যতম ব্যস্ততম রাস্তা। কিন্তু এখন যে অবস্থা তাতে কয়েকশ গাড়ি চলে। পরিচ্ছন্ন পোষাকে একবার এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করলেই সেটি আর ব্যবহার উপযোগী থাকছে না। মাথা ঢেকে আর মুখে মাস্ক পরেও চলাচল করা যায় না। যতটুকু কাজ করেছে তাও আবার নিম্নমানের। এখনই যে অবস্থা তাতে সামনে বর্ষারকালে এই সড়ক দিয়ে কোনো মতেই আর চলাচল করা যাবেনা। গ্রামগুলোর মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতির উন্নয়নের ক্ষেত্রে দ্রæত উন্নয়ন করন কাজ করার দাবি করছি।
মেসার্স ফোর কিংব্রাদার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক সুজাউল ইসলাম সুজা তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরে কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুরুল ইসলাম বলেন, কাজটি দ্রুত করার জন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।