প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৮ মার্চ, ২০২৫, ১০:৪০ পিএম

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জে দুই মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার(১৭ মার্চ) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের টোকরাভাষা এলাকার আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া মার্কাজুল উলুম মাদ্রাসার (লিল্লাহ বোডিং ও এতিমখানা) আবাসিক হল থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক রেজওয়ান পারভেজ (২২) ঐ মাদ্রাসার আবাসিক শিক্ষক। রেজওয়ান বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া এলাকার আলতাফ হোসেনের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকালে এ ঘটনায় মানিক হোসেন নামে একজন অভিভাবক বাদী হয়ে দেবীগঞ্জ থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চয়ন (১১) (ছদ্মনাম) ও নয়ন (১৩) (ছদ্মনাম) দু'জনেই ঐ মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র। গত ১৬ মার্চ রাত দেড়টা'র দিকে চয়নকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে মাদ্রাসার দক্ষিণ দুয়ারী টিনশেড ঘরের ভিতরে নিয়ে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও হুমকি দেখিয়ে ধর্ষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তি। এরপর তাকে কোরআন শরিফ নিয়ে শপথ করানো হয়, যেন এ ঘটনা কাউকে না জানায়। পরদিন চয়ন তারাবির নামাজের সময় তার পূর্ব পরিচিত গোলাম রাব্বিকে বিষয়টি জানায়। গোলাম রাব্বি পরে বিষয়টি চয়নের অভিভাবককে জানায়।
পরবর্তীতে চয়নের বাবা স্থানীয় কয়েকজনকে সাথে নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শফিকের সঙ্গে কথা বললে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বিস্তারিত জানায়। তখন মাদ্রাসার অন্যান্য ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে ১৩ বছর বয়সী নয়ন (ছদ্মনাম) অভিযোগ করে, গত ১০ মার্চ (সোমবার) রাতেও একই ব্যক্তি তার ওপর একই ধরনের নির্যাতন চালিয়েছেন।
এরপর ভিকটিমের বাবা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ নুরনবীকে বিষয়টি জানালে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। এ সময় মাদ্রাসার আশেপাশে এই ঘটনা জানাজানি হলে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ঐ ব্যক্তির উপর চড়াও হন। পরে রাত দেড়টায় গিয়ে দেবীগঞ্জ পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ধর্ষনের ঘটনা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সোয়েল রানা বলেন, ধর্ষনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।