প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ৪:০৭ পিএম

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের কাংশা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ বনভূমিতে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে বিশাল অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। এতে জঙ্গলের ক্ষুদ্র প্রাণী, কীটপতঙ্গ, গুল্মলতা ও চারাগাছ ধ্বংস হয়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কাংশা ইউনিয়নের হালচাটি, গান্ধীগাঁও ও গজনী বিট এলাকার বিস্তৃত বনে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে। বাতাসের তোড়ে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, ফলে উপকারী কীটপতঙ্গ, ছোট প্রাণী এবং শাল-গজারিসহ অন্যান্য চারাগাছ পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অচিরেই বনের গাছ নিলামে বিক্রি করা হবে। এতে সুবিধা নিতে কিছু অসাধু বন অংশীদার ও দুর্বৃত্তরা ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগিয়েছে। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বিষয়টিকে সাধারণ দুর্ঘটনা হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।
ময়মনসিংহ বন বিভাগের রাংটিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, শুকনো মৌসুমে শালপাতা অত্যন্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ। এছাড়া, স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও গরুর রাখালদের ফেলে দেওয়া বিড়ি-সিগারেটের আগুন থেকেও এমন অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ১০-১৫টি স্থানের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং করা হচ্ছে। তবে বন বিভাগে পর্যাপ্ত লোকবল ও সরঞ্জামের অভাব থাকায় সনাতন পদ্ধতিতেই আগুন নেভানোর চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, বন রক্ষার দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল করিম নিজেই গাছ চুরি ও আগুন দেওয়ার কাজে জড়িত। পাহাড় লুটকারীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং গোপনে বৈঠকও হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
বনের এ আগুনে অসংখ্য প্রাণী ও উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যা স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বিরাট হুমকি। এলাকাবাসী দ্রুত এ অগ্নিকাণ্ডের যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।