প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৯:২৮ পিএম

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আমানুল্লাহ আমান বলেছেন, সাবেক প্রধান মন্ত্রী বলেছিলেন শেখ হাসিনা পালায়না। অথচ গোষ্টিসহ পালিয়েছেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুথানে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু রক্ত দিতে হয়েছে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা মেহেরপুর জেলা। এই জেলায় বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠন উর্বর। মেহেরপুর জেলায় এই মাঠে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখানে বক্তব্য রেখেছিলেন। আপনারা জানেন বাংলাদেশে যখনই কোন সংকট এসেছে। সেই সংকট সমাধানের জন্যে জিয়া পরিবার প্রথম সামনে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার সরকারি কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা ও পতিত ফ্যাসিবাদের নানা চক্রান্তের অপচেষ্টা মোকাবেলাসহ বিভিন্ন জনদাবিতে মেহেরপুর জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ যখন দিকবিদিক ছুটছে, দিশেহারা মানুষ। তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ওই সংকটকালে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। ত্রিশ লক্ষ শহীদের বিনিময়ে, দুই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেয়েছিলাম স্বাধীনতা। এরপর পর একদল হলো। সেই একদল হওয়ার পর দেশ বিশৃঙ্খলার দিকে যাচ্ছিল, মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলো। ৪৫ হাজার বামপন্থী নেতাকে হত্যা করেছিল। তখন সিপাহী জনতার শান্তিপূর্ণ স্বতঃফূর্ত বিপ্লবের মধ্যদিয়ে ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের অভ্যুদয় ঘটেছিল। বাংলাদেশের মানুষ জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সকল রাজনৈতিক দল বন্ধ করে দিয়ে মাত্র একটি দল রেখেছিল। সেটি হলো বাকশাল। সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে মাত্র চার সংবাদপত্র চালু রেখেছিল। সব বন্ধ করে দিয়েছিল শেখ মুজিব। মানুষের কথা বলার অধিকার ছিলো না। পরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এসে সকল রাজনৈতিক দল খুলে দিলেন। বহু দলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন করলেন। শুধু তাই নয়, তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিলেন। বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন করে গণতন্ত্র পুঃরুদ্ধার করেছিল। অথচ এই আপোষহীন নেত্রীকে মিথ্যা মামলায় ৬টি বছর অন্ধকার কারাগারে রাখা হয়েছিলো। এমনকি স্লোপয়জন দিয়ে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছিলো। চিকিৎসক বিদেশে চিকিৎসার কথা বার বার বললেও তার অনুমতি দেয়নি হাসিনা। অথচ আওয়ামী লীগের ছোট খাটো নেতারাও বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। আল্লাহ চাইলে খালেদা জিয়া সুস্থ্য হয়ে আবারও দলের হাল ধরবেন। দেশের প্রতিটা সংকটে জিয়া পরিবার আছে, থাকবে। সংকট মোকাবেলায় ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ থাকলে বিএনপিকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। কখনও কোন ষড়যন্ত্র বিএনপিকে ঠেকিয়ে রাখতে পারেনি আগামীতেও পারবে না।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাভেদ মাসুদ মিল্টন। সঞ্চলনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. কামরুল হাসানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, ফয়েজ মোহাম্মদ, মেহেরপুর-১ আসনের সাবকে সংসদ সদস্য ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ অরুণ, মেহেরপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমজাদ হোসেনসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দ। হাজার হাজার বিএনপির নেতা-কর্মীরা সমাবেশে অংশ নেয়।