প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৭ এএম

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বিভিন্ন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের হল ফি ও সংশ্লিষ্ট খাতে ৭২ লাখ টাকার বেশি বকেয়া জমেছে। এ বকেয়া আদায়ে প্রশাসন অনলাইন পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বকেয়া রয়েছে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলে, যেখানে প্রায় ৩০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এছাড়া শহীদ লে. সেলিম হলে ১৩ লাখ, শহীদ আব্দুল হামিদ হলে ১১ লাখ ৭০ হাজার এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হলে ১১ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে।
এছাড়া শহীদ শহিদুল ইসলাম হলে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার, ছাত্র হল-১-এ ২ লাখ ২০ হাজার, টিনশেড হলে প্রায় ২ লাখ এবং ছাত্রী হল-২-এ প্রায় ১ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। ছাত্র হল-২-এর তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ছাত্রী হল-১-এ কোনো বকেয়া নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
হল প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, অধিকাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত ফি পরিশোধ করলেও একটি অংশ দীর্ঘদিন বকেয়া রেখে দেওয়ায় হল পরিচালনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।
রুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য সব হলে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বকেয়া পরিশোধ করেছেন। নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বকেয়া রাখার সুযোগ না থাকলেও বাস্তবে অনেকের ছয় মাসেরও বেশি বকেয়া রয়েছে।
তিনি জানান, আগামী মাস থেকে অনলাইন পেমেন্ট, অনলাইন হল কুপন এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি হল ফি বকেয়া থাকলে পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্তও একাডেমিক কাউন্সিলে অনুমোদন পেয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশা, ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ফি পরিশোধ ও নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হলে বকেয়া আদায় সহজ হবে এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘদিন বকেয়া রাখার প্রবণতা কমে আসবে। এছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী তিন মাসের বেশি বকেয়া থাকলে আবাসিক সিট বাতিলের বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
জ/উ