প্রকাশ: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৭ পিএম

"মাথার ওপর ছাদ বলতে ছিল শুধু মাটির এই দেয়ালটুকু প্রকৃতির নিষ্ঠুরতায় গতকাল রাতে তাও মিশে গেল মাটিতে।" গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের বাড়িগাঁও গ্রামে প্রকৃতির এমন নির্মমতার শিকার হয়েছেন রিকশাচালক মজিবুর রহমান। গতকাল রাতে টানা বৃষ্টিতে তার মাটির তৈরি ঘরটি পানিতে ভিজে নরম হয়ে ধসে পড়ে। ফলে এই মুহূর্তে তার ও তার পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।
এই অসহায়ত্বের খবর পেয়ে আজ সোমবার (১৩ জুলাই) ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শনে যান কাপাসিয়া উপজেলার নবাগত ও মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। তিনি ধসে পড়া বাড়িটি ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত রিকশাচালক মজিবুর রহমানের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। পরিদর্শন শেষে ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে মজিবুর রহমানের পরিবারের হাতে দুই বান্ডেল ঢেউ টিন এবং চাল, ডাল, তেল, মসলা ও চিনিসহ শুকনো খাবার তুলে দেন।
একই সাথে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পর্যায়ক্রমে সরকারি বরাদ্দ আসার সাথে সাথেই তাদের আরও সহযোগিতা প্রদান করা হবে। প্রশাসনের এমন দ্রুত ও মানবিক পদক্ষেপে ভুক্তভোগী মজিবুর রহমানের পরিবার অত্যন্ত আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। এদিকে, একই গ্রামে বিগত কয়েক মাস ধরে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। এতে এলাকার কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বাগানের গাছপালা নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়রা জানান, বেগুনহাটি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রধান সড়ক-যা দিয়ে প্রতিদিন পাঁচটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে, সেখানে একটি পুরাতন কালভার্ট ছিল। এলাকার তাজুল ইসলাম পাঠান নামে এক ব্যক্তি মাটি ফেলে সেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে এলাকায় কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকের মাছের ঘের ও বিভিন্ন পুকুর থেকে কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে এবং তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুল মাদ্রাসায় যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এমন পরিস্থিতিতে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা। নবাগত ইউএনও হাফিজুল হক সেই রাস্তা ও পানিবন্দী এলাকাও পরিদর্শন করেন।
তিনি ভুক্তভোগীদের কষ্ট লাঘবে অতি দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জোরালো আশ্বাস দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওলানা আজিজুল হকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। মজিবুর রহমানের ধসে পড়া বাড়ির পাশেই বসবাস করেন অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া। ইউএনও হাফিজুল হক তার বাড়িটি পরিদর্শন করেন। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা ফিরোজ মিয়া অভিযোগ করে জানান, সরকারি বরাদ্দের যে ঘরটি তিনি পেয়েছেন, সেটির কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ভবনের কাজ এখনো শেষ হয়নি। ইউএনও অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি শোনেন এবং দ্রুত এই সমস্যাটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।
জ/উ