জঙ্গিবাদ দমন থেকে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায়
বদলে গেল এটিইউ ও সিটিটিসির নাম, বাড়ছে দায়িত্বের পরিধি
খন্দকার হানিফ রাজা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:২৩ পিএম

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষায়িত দুই ইউনিট- অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি), নতুন পরিচয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটিইউর নতুন নাম রাখা হয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট (এসএসইউ) এবং সিটিটিসির নাম হয়েছে স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট-ডিএমপি (এসএসইউ-ডিএমপি)। 

তবে এই পরিবর্তন কেবল নামেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবর্তিত বৈশ্বিক ও দেশীয় নিরাপত্তা বাস্তবতায় দুই ইউনিটের দায়িত্ব ও কার্যপরিধিও বাড়ানো হচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এটিইউর নাম পরিবর্তনের অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরদিন ৮ জুন ডিএমপি কমিশনারের কাছে সিটিটিসির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পৃথক চিঠি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের ভাষ্য, দেশে ও বিশ্বে নিরাপত্তা হুমকির ধরন দ্রæত বদলে যাচ্ছে। সহিংস উগ্রবাদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বাস্তবতায় প্রচলিত সন্ত্রাসবিরোধী কাঠামোর বাইরে গিয়ে আরও আধুনিক ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট শুধু জঙ্গিবাদ দমনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতীয় স্থিতিশীলতা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও ইউনিটটি আরও বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করবে। একইভাবে এসএসইউ-ডিএমপিও রাজধানীকেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে অধিক সমন্বিত ভ‚মিকা রাখবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, উগ্রবাদী সংগঠনগুলো এখন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে হামলার পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন করছে। তারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে উগ্রপন্থায় উদ্বুদ্ধ করছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সা¤প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তরুণদের গোপন ‘স্লিপার সেল’-এ যুক্ত করছে। এসব পরিবর্তিত হুমকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, নতুন নাম ব্যবহারের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ইউনিটগুলোর প্রতি জনআস্থা আরও সুদৃঢ় করা। অতীতে বিভিন্ন অভিযানে ওঠা বিতর্ক বা প্রশ্নের বাইরে এসে আধুনিক পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে জনমনে ইতিবাচক বার্তা যাবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে ইউনিটগুলোর বিদ্যমান নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল দায়িত্বও অপরিবর্তিত থাকবে।

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘স্পেশাল সিকিউরিটি ইউনিট’ নামটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত হওয়ায় বিদেশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তথ্য বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যেও সমন্বয় বাড়বে।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর দেশের সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ ২২ জন নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট। বর্তমানে ইউনিটটিতে ৬২০ জনের অনুমোদিত জনবল রয়েছে এবং এটি সারা দেশে বিশেষায়িত সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এটিইউ ও সিটিটিসির নাম পরিবর্তন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে বেশি একটি কৌশলগত পুনর্গঠন। কারণ প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ, অনলাইন উগ্রবাদ, সাইবার ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধু সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নয়, বরং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাই এখন সময়ের দাবি। সেই বাস্তবতায় এসএসইউ ও এসএসইউ-ডিএমপির নতুন যাত্রা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft