দেশীয় মাছ সংরক্ষণে ৬৬৯ অভয়াশ্রম: সংসদে মন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৭ পিএম

দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকার অভয়াশ্রম স্থাপন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রাকৃতিক আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও আইন প্রয়োগসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সদস্য খায়রুল কবির খোকনের তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে অভয়াশ্রম স্থাপন, উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত, প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের নদ-নদী ও অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মোট ৬৬৯টি মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। প্রায় ১ হাজার ১৯৫ দশমিক ৯১ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এসব অভয়াশ্রম স্থানীয় উপকারভোগী দল পরিচালনা করছে।

মন্ত্রী জানান, মূল্যবান জলজ সম্পদ সংরক্ষণে চট্টগ্রামের নাজিরহাট সেতু থেকে হালদা-কর্ণফুলী মোহনা এবং কালুরঘাট সেতু পর্যন্ত হালদা নদীর ৪০ কিলোমিটার এলাকাকে মাছের অভয়াশ্রম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া মৌলভীবাজার জেলার তিনটি উপজেলায় ১০টি স্থায়ী মাছের অভয়াশ্রম সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সরকার ‘অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় প্রতিবছর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে বিল নার্সারি স্থাপন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব ও উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ৯৪৭টি বিল নার্সারি স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া দেশীয় মাছ ও শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার।

তিনি বলেন, মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে প্রতিবছর ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত সাতটি হাওর জেলায় ৩০ দিনের জন্য মাছ ধরা নিষিদ্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং কারেন্ট জালের মতো অবৈধ জালের ব্যবহার রোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট দেশীয় মাছ সংরক্ষণে গবেষণার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন পর্যন্ত পাবদা, গুলশা, শিং, মাগুর, ভেদা, বাটা, সরপুঁটি, ভাঙ্গনা, কালিবাউশ, মহাশোল, আইড়, চিতল, ফলি, কুচিয়া, টেংরা ও খলিশাসহ ৪১টি দেশীয় মাছের প্রজনন ও চাষ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

সংসদকে মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে দেশে দেশীয় মাছের মোট ২৬১টি প্রজাতি রয়েছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft