প্রকাশ: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম

ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক সংকটের জের ধরে বাংলাদেশে চলতি ২০২৬ সালের জন্য নির্ধারিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ অর্ধেক কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাতার এনার্জি।
সোমবার (৬ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ও সংশ্লিষ্ট শিল্প খাত বিশেষজ্ঞরা।
পেট্রোবাংলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যমান সব সমস্যার মূল উৎস এই যুদ্ধ। তবে এই ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ বসে নেই। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে গ্যাস কেনা এবং অন্যান্য সরবরাহকারী দেশের সাথে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তিসহ বিকল্প উৎসগুলো অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
দেশের জন্য যে অপশনটি সবচেয়ে অনুকূল বাণিজ্যিক শর্ত দেবে, সেটিই বেছে নেওয়া হবে। কাতারএনার্জি অবশ্য আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ কমালেও তারা যথাসম্ভব জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখার চেষ্টা করবে।
গত বছর বাংলাদেশের আমদানিকৃত প্রায় ৭০ লাখ মেট্রিক টন এলএনজির মধ্যে ৪১.৫ লাখ টনই এসেছে কাতার থেকে, যা দেশটিকে বাংলাদেশের শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারীতে পরিণত করেছে।
কাতারএনার্জির সাথে পেট্রোবাংলার দুটি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি রয়েছে, যার একটির আওতায় বার্ষিক ২৫ লাখ টন এবং অন্যটির আওতায় ১৮ লাখ টন এলএনজি পাওয়ার কথা। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বাংলাদেশ কাতার থেকে ১৯টি কার্গো এলএনজি পেয়েছিল। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর কাতারের রাস লাফান রপ্তানি কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে আর কোনো কার্গো আসেনি।
বিশ্বের মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অত্যন্ত সীমিত সংখ্যক খালি এলএনজি ট্যাঙ্কার এই প্রণালিতে প্রবেশ ও বের হতে পেরেছে। কাতার থেকে কিছু কার্গো এই প্রণালি পার হতে পারলেও তার কোনোটিই বাংলাদেশে পৌঁছায়নি।
যার ফলে, অভ্যন্তরীণ গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশ স্পট মার্কেট থেকে রেকর্ড ৩৫টি কার্গো এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হয়েছে। কাতারএনার্জির এই সাময়িক সরবরাহ হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: রয়টার্স।
জ/উ