প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ এএম

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের দামে পতনের প্রভাবে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যবান ধাতুটির দাম গত দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বুধবার (২৪ জুন) ভোর সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬৭.৫১ ডলারে দাঁড়ায়, যা ১১ জুনের পর সর্বনিম্ন। একই সময় আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচার ১.৬ শতাংশ কমে ৪,০৮৩.৯০ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা কমে আসার পাশাপাশি মার্কিন ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা স্বর্ণবাজারে চাপ সৃষ্টি করেছে। বন্ডের ইয়িল্ড বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের বদলে অন্যান্য সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত মন্তব্য এবং তেহরানের পাল্টা অবস্থানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও তা সাময়িকভাবে বাজারে বড় ধরনের উত্থান আনতে পারেনি।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এবং ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে। বাজারে ধারণা করা হচ্ছে, ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার একাধিকবার বাড়াতে পারে, যা স্বর্ণের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও উচ্চ সুদের পরিবেশে সুদবিহীন এই সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়। একই সঙ্গে শক্তিশালী ডলার অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলেছে।
এদিকে স্পট সিলভার ০.৯ শতাংশ কমে ৬১.৪৪ ডলার, প্লাটিনাম ০.৮ শতাংশ কমে ১,৬৩৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৮ শতাংশ কমে ১,২২৭.৪১ ডলারে নেমে এসেছে।
জ/উ