প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ৪:৫২ পিএম

নাটোরের চলনবিল অঞ্চলে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে ক্ষতিকর ও আক্রমণাত্মক আগাছা পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus)। কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি ক্রমেই বড় হুমকি হয়ে উঠছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন সড়কের পাশ, খালি জমি, কৃষিজমির আশপাশ, খাল-বিলের পাড় এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগাছাটির বিস্তার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে বড় বড় ঝোপ আকারে পার্থেনিয়াম জন্মাতে দেখা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থেনিয়াম বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিকর আগাছা হিসেবে পরিচিত। এটি অত্যন্ত দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং আশপাশের দেশীয় উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করে। ফলে কৃষিজমি ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, পার্থেনিয়ামের সংস্পর্শে এলে অনেকের ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি, র্যাশ, চোখে জ্বালাপোড়া এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, আগাছাটি ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের জমির আশপাশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি ও জায়গা দখল করে উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। এতে কৃষকদের অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পার্থেনিয়ামের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্যও হুমকি। এটি দেশীয় উদ্ভিদ প্রজাতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে তাদের অস্তিত্ব সংকুচিত করে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত আগাছাটি শনাক্ত করে অপসারণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আগাছাটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জ/দি