প্রকাশ: রোববার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১০:২২ এএম

কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার প্রতারণা চক্রের কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার হওয়া আরও ৫৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। শনিবার দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এর আগে শুক্রবার দেশে ফেরেন আরও ৩৭ জন বাংলাদেশি। ফলে দুই দিনে মোট ৯১ জন বাংলাদেশি নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। ফেরত আসা ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে জরুরি সহায়তা এবং বাড়ি ফেরার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করে ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে ভালো চাকরির আশ্বাসে তারা কম্বোডিয়ায় যান। সেখানে পৌঁছানোর পর বিভিন্ন প্রতারণামূলক চক্রের মাধ্যমে তাদের সাইবার স্ক্যাম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।
দেশে ফেরা এক ব্যক্তি জানান, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তিনি কম্বোডিয়ায় যান। শুরুতে কম্পিউটারভিত্তিক চাকরির কথা বলা হলেও পরে তিনি বুঝতে পারেন, সেখানে অনলাইন প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কাজ ছেড়ে দিতে চাইলে বিভিন্ন শর্ত আরোপ করা হয় এবং তাকে সেখানে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
আরেকজন জানান, ভিন্ন ধরনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেশে নেওয়ার পর তাকে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় সেখানে আটকে ছিলেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত কাজের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক চাপের মুখে পড়তে হতো।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের মাধ্যমে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আটকে থাকা বাংলাদেশিদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ফেরা ব্যক্তিদের সংখ্যা এ ধরনের প্রতারণামূলক চক্র সম্পর্কে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের একটি উদ্বেগজনক রূপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। আকর্ষণীয় বেতন ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে নিয়োগের ফাঁদ তৈরি করা হয়। পরে অনেককে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য করা হয়।
এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে প্রার্থীদের যথাযথ যাচাই-বাছাই করা উচিত। বিদেশগামীদের বৈধ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের পরামর্শ গ্রহণের পরামর্শও দেন তিনি।
জ/উ