
নাক দিয়ে রক্ত পড়া সাধারণত খুব উদ্বেগের বিষয় নয়। গরম আবহাওয়া, নাকের ভেতর শুষ্কতা, অ্যালার্জি বা সামান্য আঘাতের কারণেও এমনটি হতে পারে। তবে কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, তাহলে তা শরীরে পুষ্টির ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালীগুলোকে দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ভিটামিন কে-এর অভাব
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ক্ষেত্রে ভিটামিন কে-এর ঘাটতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এই ভিটামিন রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন কে না থাকলে রক্তপাত সহজে বন্ধ হতে চায় না এবং সামান্য আঘাতেও দীর্ঘ সময় রক্ত পড়তে পারে।
ভিটামিন সি-এর অভাব
ভিটামিন সি শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় না, এটি রক্তনালীর সুস্থতা বজায় রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি-এর ঘাটতিতে রক্তনালীগুলো দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। ফলে নাকের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালী সামান্য চাপ বা ঘর্ষণেই ফেটে যেতে পারে এবং রক্তপাত হতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি
আয়রনের অভাব সরাসরি নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ না হলেও এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকতে পারে। দীর্ঘদিন ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়লে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে আয়রনের স্বল্পতা টিস্যুর স্বাভাবিক কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করে রক্তনালীর দুর্বলতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ভিটামিন বি-১২ ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি
ভিটামিন বি-১২ ও ফলিক অ্যাসিড সুস্থ রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব উপাদানের ঘাটতি হলে রক্তের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। যদিও নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে এদের সম্পর্ক সরাসরি নয়, তবুও দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি রক্তস্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
* ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়ে
* রক্তপাত সহজে বন্ধ না হয়
* মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভূত হয়
* অথবা শরীরে অন্য কোথাও অস্বাভাবিক রক্তপাত দেখা যায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বারবার নাক দিয়ে রক্ত পড়াকে অবহেলা না করে এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করা জরুরি। সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি পূরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।