
উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন এমন একটি সমস্যা, যা অনেক মানুষ বুঝতেই পারেন না। তারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করেন-কাজ করেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, মানসিক চাপ সামলান-কিন্তু অজান্তেই তাদের হৃদ্যন্ত্র অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে থাকে এবং রক্তনালীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। পরে হঠাৎ স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাকের মতো বড় বিপদের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে আসে।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১.২৮ বিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। অর্থাৎ প্রতি পাঁচজন প্রাপ্তবয়স্কের একজন এই সমস্যায় আক্রান্ত। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে।
বর্তমানে হৃদ্রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে উচ্চ রক্তচাপ, যা প্রতি বছর প্রায় এক কোটি মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত।
সচেতনতার ঘাটতি বড় সমস্যা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত মানুষের বড় একটি অংশ জানেই না যে তারা এই রোগে ভুগছেন। পরিসংখ্যান বলছে, আক্রান্তদের মাত্র ৪২ শতাংশ তাদের অবস্থা সম্পর্কে সচেতন। ফলে অসংখ্য মানুষ চিকিৎসাহীন অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকি নিয়ে চলছেন।
তবে আশার বিষয় হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ-দুটিই সম্ভব। নিয়মিত ব্যায়াম, কম লবণ খাওয়া, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজন হলে ওষুধ সেবনের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
যেসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়-
সকালের মাথাব্যথা
অনেকের ক্ষেত্রে ভোরে ঘুম থেকে ওঠার পর মাথার পেছনে তীব্র বা ধকধকে ব্যথা হতে পারে। দিনের সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা কমে যাওয়ায় অনেকে এটিকে সাধারণ ক্লান্তি বা মানসিক চাপ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু এটি উচ্চ রক্তচাপের ইঙ্গিত হতে পারে।
অস্বাভাবিক ক্লান্তি
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। উচ্চ রক্তচাপের কারণে হৃদ্যন্ত্রকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, যার প্রভাব শরীরের শক্তির ওপর পড়ে।
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
সিঁড়ি ভাঙা, অল্প হাঁটা বা হালকা কাজের সময় যদি শ্বাসকষ্ট হয়, তবে সেটি হৃদ্যন্ত্র বা রক্তনালীর সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
ঘন ঘন নাক দিয়ে রক্ত পড়া
অ্যালার্জি বা শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে নাক দিয়ে রক্ত পড়তে পারে। তবে যদি এটি বারবার ঘটে এবং অন্য উপসর্গও থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।
ঝাপসা দেখা
উচ্চ রক্তচাপ চোখের রক্তনালীতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে ঝাপসা দেখা, চোখে চাপ অনুভব করা বা মনোযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঘুমের সমস্যা
রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ভালো ঘুম না হওয়া বা অতিরিক্ত নাক ডাকার মতো সমস্যাও উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যা থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই এই নীরব ঘাতকের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জ/উ