প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৪:০২ পিএম

সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখের নিচে ফোলাভাব, লালচে ভাব কিংবা চোখের পাতায় ভারী অনুভূতি দেখলে অনেকেই তা রাত জাগা বা ক্লান্তির ফল ভেবে গুরুত্ব দেন না। তবে চিকিৎসকদের মতে, এমন উপসর্গ কখনো কখনো থাইরয়েড সমস্যার প্রাথমিক সংকেতও হতে পারে।
চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানান, শরীরে অন্য কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই অনেক সময় থাইরয়েডজনিত সমস্যা চোখে ধরা পড়ে। তাই চোখের এমন পরিবর্তনকে হালকাভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গলার ছোট্ট থাইরয়েড গ্রন্থি শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন এবং হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে। এই গ্রন্থির কার্যক্রমে গোলযোগ দেখা দিলে তার প্রভাব চোখেও পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, থাইরয়েড আই ডিজিজ নামের একটি সমস্যায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে চোখের আশপাশের টিস্যুকে আক্রমণ করে। ফলে চোখ ও চোখের পাতায় ফোলাভাব, লালচে ভাব, শুষ্কতা, অতিরিক্ত পানি পড়া বা ভারী অনুভূতি তৈরি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে চোখ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উঁচু বা বের হয়ে এসেছে বলেও মনে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, থাইরয়েডের পরিচিত উপসর্গ যেমন ওজন কমে যাওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া বা অতিরিক্ত গরম লাগার আগেই চোখে এসব পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এজন্য অনেকেই শুরুতে সমস্যাটি বুঝতে পারেন না।
যেসব লক্ষণ দীর্ঘদিন দেখা গেলে সতর্ক হওয়া জরুরি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-চোখের পাতা ফুলে থাকা, চোখ লাল হওয়া বা জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া, আলোতে অস্বস্তি, চোখ পুরোপুরি বন্ধ করতে সমস্যা এবং চোখের আকৃতিতে পরিবর্তন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, এসব উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে ঘরোয়া সমাধানের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সময়মতো শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা কমানো এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষিত রাখা সহজ হয়। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
জ/উ