
গত বছরের নভেম্বরে জারি হওয়া মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা অনুসারে যদি কোনো স্কিমের ইউনিটপ্রতি গড় লেনদেনমূল্য স্কিমটির ক্রয়মূল্য বা বাজারে ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি হয়, তার তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে যায়, সেক্ষেত্রে ইউনিটহোল্ডারদের মতামতের ভিত্তিতে সেই ফান্ডের রূপান্তর কিংবা অবসায়নের বিধান রয়েছে। এ বিধান বাস্তবায়নে গতকাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পক্ষ থেকে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ফলে এক মাসের মধ্যেই ২৫ শতাংশ কমে লেনদেন হওয়া মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর রূপান্তর কিংবা অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫ অনুসারে, এ বিধিমালা সরকারের গেজেটে প্রকাশের ছয় মাসের মধ্যে যদি কোনো স্কিমের ইউনিটপ্রতি গড় লেনদেনমূল্য স্কিমটির ক্রয়মূল্য বা বাজারে ঘোষিত নিট সম্পদমূল্যের মধ্যে যেটি বেশি হয়, তার তুলনায় ২৫ শতাংশের বেশি কমে যায়, তাহলে ইউনিটহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফান্ডটির ট্রাস্টি বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আহ্বান করতে পারবে। ইজিএমে উপস্থিত ভোটদাতা ইউনিটহোল্ডারদের তিন-চতুর্থাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট এবং বিএসইসির অনুমোদন সাপেক্ষে স্কিমটিকে বেমেয়াদিতে রূপান্তর অথবা অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে শর্ত হলো ছয় মাস শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। রেকর্ড ডেটের ২১ দিনের মধ্যে ইজিএম করতে হবে।
বিধিমালা অনুসারে, ১২ মে ছয় মাসের সময়সীমা পূর্ণ হতে যাচ্ছে এবং আগামী ১২ জুনের মধ্যে ট্রাস্টিকে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিএসইসির পক্ষ থেকে গতকাল এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের মেয়াদ আর বাড়ানো যাবে না। তবে এগুলোকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করার সুযোগ রয়েছে। মেয়াদি থেকে বেমেয়াদিতে রূপান্তরকে ফান্ডের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হিসেবে গণ্য করা হবে। ফান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সম্পদ ব্যবস্থাপক চাইলে ট্রাস্টির কাছে রূপান্তরের প্রস্তাব দিতে পারেন। এ প্রস্তাব সম্পদ ব্যবস্থাপক ও ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদিত হতে হবে।
সম্পদ ব্যবস্থাপক রূপান্তরের প্রস্তাব দিলে ট্রাস্টিকে ফান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫০ দিন আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ট্রাস্টি বোর্ডের সভার পর ১৪ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেকর্ড ডেট ঘোষণা করতে হবে। রেকর্ড ডেটের পর ২১ দিনের নোটিস দিয়ে ইউনিটহোল্ডারদের ইজিএম আহ্বান করতে হবে। রেকর্ড ডেট থেকে স্টক এক্সচেঞ্জে ওই ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন স্থগিত থাকবে।
রূপান্তর প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে সভায় উপস্থিত মোট ইউনিটের অন্তত তিন-চতুর্থাংশ ইউনিটহোল্ডারের সম্মতি প্রয়োজন। যদি ফান্ডের তিন-চতুর্থাংশ ইউনিটহোল্ডার রূপান্তরের পক্ষে ভোট না দেন, তবে ফান্ডটি বিলুপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। কিছু ক্ষেত্রে রূপান্তর না হলে ফান্ডটি আবার আগের মতো সম্পদ ব্যবস্থাপকের কাছে ফেরত দেওয়া হতে পারে। ‘ইফেক্টিভ ডেট’ বা কার্যকর তারিখ থেকে ফান্ডের যাবতীয় সম্পদ ও দায় ট্রাস্টির নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ট্রাস্টিকে একজন স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ দিতে হবে, যিনি ফান্ডের সম্পদ মূল্যায়ন এবং একটি নিরীক্ষা প্রতিবেদন তৈরি করবেন। এ প্রতিবেদন ইজিএমের ৩০ দিনের মধ্যে কমিশনে জমা দিতে হবে।
রূপান্তরসংক্রান্ত খরচের বিষয়ে বিএসইসির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রূপান্তর প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সভার খরচ ও ট্রাস্টি ফি নতুন নির্বাচিত সম্পদ ব্যবস্থাপক বহন করবেন। প্রস্তাব পাস না হলে এ খরচ বর্তমান সম্পদ ব্যবস্থাপককে দিতে হবে। একটি ফান্ডের রূপান্তরের জন্য ট্রাস্টি ফি সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা হতে পারবে। মোট রূপান্তর ও ইউনিট সার্টিফিকেট ইস্যু করার খরচ ফান্ডের আকারের ১ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপকের ফি সর্বোচ্চ দশমিক ৫০ শতাংশ হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর রূপান্তর নিয়ে এক ধরনের ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। বিধিমালা অনুসারে, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তর করা হলে বিনিয়োগকারীরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন। কারণ বর্তমানে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট বর্তমানে অভিহিত মূল্যের চেয়েও কম দামে লেনদেন হচ্ছে। রূপান্তর প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীরা ফান্ডের নিট সম্পদমূল্যের (এনএভি) ভিত্তিতে ইউনিট পাবেন। এতে বর্তমানে তাদের কাছে যে পরিমাণ ইউনিট আছে, রূপান্তরের পরে তার চেয়ে বেশি ইউনিট পাবেন। তাছাড়া বেমেয়াদি ফান্ডে রূপান্তরের পর বিনিয়োগকারী চাইলে ইউনিট সমর্পণ করে এনএভি অনুসারে নগদায়ন করতে পারবেন।
জ/উ