
জার্মানির হ্যানোভারে শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম শিল্প মেলা হ্যানোভার মেসে, যেখানে এবারের অংশীদার দেশ হিসেবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ব্রাজিল। প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছে দেশটি।
২০ এপ্রিল শুরু হওয়া এই মেলায় ব্রাজিল দেখাতে চাইছে, তারা শুধু কৃষিতে নয়, শিল্প প্রযুক্তিতেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক শক্তি। ব্রাজিলিয়ান ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সির প্যাট্রিসিয়া গোমেস বলেন, তাদের লক্ষ্য নবায়নযোগ্য শক্তি, ইলেকট্রিক মোবিলিটি এবং ডিজিটাল শিল্পে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করা।
ইলেকট্রিক যানবাহন এবং স্মার্ট চার্জিং অবকাঠামোতে ব্রাজিল ইতিমধ্যেই লাতিন আমেরিকায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। গত বছর দেশটিতে ২ লাখ ২৪ হাজার ইলেকট্রিক যান নিবন্ধিত হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
মেলার আয়োজকরা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামোর স্থিতিশীলতা এবং বিকল্প জ্বালানি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে।
এবারের মেলায় ৬০টি দেশের প্রায় ৪ হাজার কোম্পানি অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে আমাজন ওয়েব সার্ভিসেস, বোশ, সিমেন্স, এসএপি, মাইক্রোসফট, হুয়াওয়ে, অ্যাকসেঞ্চারসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শুধু ব্রাজিল থেকেই অংশ নিচ্ছে ৩০০টির বেশি কোম্পানি।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মারকোসুরভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘ আলোচনার পর হওয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এই মেলায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে জার্মানির যন্ত্রপাতি রপ্তানি ভবিষ্যতে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
তবে বৈশ্বিক অর্থনীতির চিত্র এখনো অনিশ্চিত। এক জরিপে দেখা গেছে, জার্মানির বেশিরভাগ কোম্পানি ভবিষ্যৎ ব্যবসা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এই অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও ব্রাজিলের শিল্প ও প্রযুক্তি খাত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, যেমন ডব্লিউইজি ও রোমি, তাদের প্রযুক্তি ও উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে মেলায় অংশ নিচ্ছে।
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মারজ আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করবেন। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে