
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক প্রান্তিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর প্রাপ্য মজুরি জাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে আত্মসাৎ এবং অফিসের ওয়াইফাই বিলের অর্থ উত্তোলনে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তারের বিরুদ্ধে। সরকারি অফিসিয়াল ভাউচার যাচাই ও ভুক্তভোগীর অভিযোগে ভিত্তিতে বিষয়টি সামনে আসে। যদিও কর্মকর্তা দাবি করছেন, বিল প্রস্তুতে এ ধরণের অমিল দেখানো যেতে পারে এবং সকল অফিসেই বিল ভাউচারের কাজ এ ভাবেই করে থাকেন।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অফিস আদেশ মাসিক ২ হাজার টাকা পারিশ্রমিক নির্ধারণ করে দায়িত্ব অর্পণ করা পরিচ্ছন্নতাকর্মী খদেজা বেগম (৫৫)এর নামে কাগজে মাসিক ২ হাজার টাকা উত্তোলন দেখানো হলেও বাস্তবে তাকে দেওয়া হতো মাত্র ৫শত টাকা। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের মতে, একজন নিরুপায় ও শ্রমনির্ভর প্রান্তিক নারীর প্রাপ্য অর্থ আত্মসাত কেবল আর্থিক অনিয়ম নয়, এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবিকতার চরম অবমাননা। তারা ঘটনার সুষ্ঠ্য তদন্ত, জাল স্বাক্ষর ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অপর দিকে একই ভাবে অফিসের ওয়াইফাই বিলে ৬শত টাকা মাসিক চুক্তিতে বিল পরিষদ করলেও বিল, ভাউচারে উত্তোলন দেখানো হয়েছে ১৫ শত টাকা।
উপজেলা প্রতিনিধির সংগ্রহ করা অফিসিয়াল ভাউচার, হিসাবপত্র এবং স্বাক্ষরের অমিল থেকে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। নথিতে থাকা স্বাক্ষরে খদেজা বেগমের অস্বীকৃতি এবং ২ হাজার টাকা না পাওয়ার দাবি করেন।
খদেজা বেগম বাগাতিপাড়া পৌরসভার নড়ইগাছা এলাকার বাসিন্দা। প্রায় ৩০ বছর ধরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিভিন্ন দপ্তর ও ডরমিটরি ভবনে পরিচ্ছন্নতা ও রান্নার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। জীবন যুদ্ধে সংগ্রামী এক নারী খদেজা বেগম দীর্ঘদিন মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাপ্তরিক আদেশে কাজ করলেও কোনো লিখিত নিয়োগপত্র বা স্থায়ী চাকরির নিশ্চয়তা পাননি। অভিযোগ উঠেছে, মৌখিক চুক্তির সুযোগ নিয়ে তার প্রাপ্য অর্থ কাগজে বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
উপজেলা প্রতিনিধির অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু হওয়ার পর তাকে কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই ৫ শত টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অসদাচরণ এবং কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের নাস্তার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় স‚ত্রে জানা গেছে।
খদেজা বেগম বলেন, তিনি বহু বছর ধরে অফিসে কাজ করেছেন এবং প্রতি মাসে ৫শত টাকা পেতেন। তার নামে বেশি টাকা উত্তোলন করা হতো বলে তিনি আন্দাজ করলেও কখনো প্রতিবাদ করেননি। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে কানাঘোষা শুরু হওয়ার পর হঠাৎ একদিন তাকে ৫ শত টাকা দিয়ে বলা হয়, আর কাজ করতে হবে না। তাকে দেওয়া অর্থের বিপরীতে কখনো কোনো কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা দুনীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহববুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সরকারি নথি ও স্বাক্ষরের সঙ্গে বাস্তব প্রাপ্তির অমিল স্পষ্টভাবে দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন আক্তারের বলেন, তিনি খদেজা বেগমকে ৫শত টাকা করে প্রতি মাসে দিতেন। খদেজা বেগম বাড়িতে অবস্থানরত একজন সাধারণ পরিচ্ছন্নকর্মীর মতই কাজ করতেন। অতিরিক্ত বিল উত্তোলন এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিল তৈরির সময় ভ্যাট ও আয়কর দিতে হয়। তাই বেশি অঙ্কের বিল দেখিয়ে ভাউচার করতে হয়। সকল অফিসই এ ভাবে বিল করেন বলে তিনি জানান।তবে ভাউচারে জাল স্বাক্ষর ও অতিরিক্ত ওয়াইফাই বিলের ভাউচার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোন উত্তর দেননি।
এ বিষয়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের উপপরিচালক (চঃদাঃ) নীলা হাফিয়া বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সকল অফিসেই বিল ভাউচারের কাজ এ ভাবেই করে থাকেন তিনি এ ভাবে বলতে পারেন না।
জ/উ