রাজধানীতে খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার
হত্যার পর ওবায়দুল্লাহকে সাত টুকরা করে রুমমেট শাহীন
প্রকাশ: রোববার, ১ মার্চ, ২০২৬, ৩:০৪ পিএম

রাজধানীর মতিঝিল, নয়াপল্টন, বায়তুল মোকাররম ও কমলাপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত-পা ও মাথা উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ। নরসিংদীর শিবপুরের বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহকে হত্যার পর তার দেহ সাত টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয় তারই রুমমেট শাহীন। 

সিসিটিভি ফুটেজ, জিজ্ঞাসাবাদে দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি উদ্ধারের ভিত্তিতে ঘাতক শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (০১ মার্চ) মিন্টো রোডে অবস্থিত ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ।

পুলিশ জানায়, ওবায়দুল্লাহ একটি হোমিওপ্যাথি প্রতিষ্ঠানে মার্কেটিংয়ে চাকরি করতেন এবং শাহীন হোটেল হিরাঝিলে কর্মরত ছিলেন। তারা মতিঝিলের জসিমুদ্দিন রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সিগারেট এবং কাবাব-নানরুটি আনা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। ওবায়দুল্লাহ একা খাবার খাওয়া এবং রাতে ঘুমানোর সময় ফোনে জোরে কথা বলায় শাহীন বিরক্ত হন। একপর্যায়ে ওবায়দুল্লাহ গালিগালাজ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহীন তাকে গোসলখানায় কাপড় ধোয়া অবস্থায় চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন।

আরও পড়ুন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের বৈঠক

ডিসি হারুন-অর-রশীদ বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে, ওবায়দুল্লাহ মাঝে মাঝে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিত, যা সে নিতে পারত না। এই ক্ষোভ এবং ওই রাতের ঝগড়াবিবাদ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।’

হত্যাকাণ্ডের পর নিজেকে বাঁচাতে শাহীন মরদেহ সাত টুকরো করেন এবং সাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে আসেন। এর মধ্যে নয়াপল্টনে আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের গেটের পাশে একটি পা এবং কমলাপুর রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথাটি ফেলেছিলেন। 

দেহের মূল অংশটি ড্রামে ভরে মতিঝিলের একটি ময়লার কন্টেইনারে ফেলে দেওয়া হয়। বাকি অংশগুলো আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলা হয়েছিল, যার একটি অংশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং অপরটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত আছে।

আরও পড়ুন : মঙ্গলবার ঢাকায় আসছেন পল কাপুর

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শাহীন সাইকেলে করে খণ্ডিত অংশগুলো ফেলার সময় সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েন। হত্যার পর তিনি স্বাভাবিকভাবে হোটেল হিরাঝিলে চাকরি করছিলেন। পুলিশ সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ২টার দিকে কাকরাইলের স্কাউট ভবনের সামনে কালো পলিথিনে মানুষের একটি পা পাওয়া যায়। এরপর শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও হাত-পা ও মাথা উদ্ধার করা হয়। নিহত ওবায়দুল্লাহ নরসিংদীর শিবপুর তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে। তার মায়ের নাম রানী বেগম।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft