প্রকাশ: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫০ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে মালয়েশিয়ায় জাহিদুল ইসলাম (৪৪) নামের এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রায় ১০ দিন পর শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে তার মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ পৌঁছায়। পরে দুপুরে লাশবাহী গাড়িতে করে নিজ বাড়িতে আনা হলে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
মৃত জাহিদুল ইসলাম উপজেলার হাটদৌল এলাকার মৃত অছিমদ্দিনের ছোট ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আড়াই বছর আগে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। জেলা সদরের তেঘরিয়া বাজার এলাকার শহিদুল ইসলাম নামের এক দালালের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় তিনি বিদেশে যান। চুক্তি ছিল—পরবর্তীতে ভিসা জটিলতা সমাধান করে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। এ জন্য অভিযুক্ত দালাল ৬ লাখ টাকা নেন। টাকা জোগাড় করতে জাহিদুলের পরিবারকে জমি বিক্রি ও ধারদেনা করতে হয়।
পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। নির্ধারিত সময় পার হলেও কাজের বৈধ ভিসার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তায় তিনি একটি সবজি বাগানে অস্থায়ীভাবে কাজ করতেন এবং অনেক সময় ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতে বাধ্য হতেন। ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, ঋণের চাপ ও পরিবারের চিন্তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এসব দুশ্চিন্তার মধ্যেই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান বলে পরিবারের দাবি।
জাহিদুলের স্ত্রী হাওয়া বলেন, “আমার স্বামী সংসারের উন্নতির জন্য জমি বিক্রি করে ও ধার করে বিদেশে গিয়েছিল। দালালের কথায় বিশ্বাস করে আজ আমরা সব হারিয়েছি। আমি শহিদুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যেন আর কোনো পরিবার এমন সর্বনাশের শিকার না হয়।”
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, জাহিদুলের সমস্যার বিষয়টি জানিয়ে একাধিকবার অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে তিনি গা ঢাকা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত মামলা গ্রহণ ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জ/দি