প্রকাশ: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৬ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজিপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে এক কৃষকের বাড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে গোয়ালঘরসহ চারটি গরু ও খড়ের পালা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ১০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। তবে এ ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আগুন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাসিরউদ্দিন শ্রীপুর গ্রামের সরাফত প্রামাণিকের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তার বাড়িতে আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে গোয়ালঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। গোয়ালঘরে থাকা চারটি গরু আগুনে মারা যায় এবং খড়ের পালা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে জানান, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ। তাদের দাবি, এর আগেও দু’বার অজ্ঞাত ব্যক্তিরা আগুন দেওয়ার চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ ঘটনায় কৃষক নাসিরউদ্দিন শ্রম বিক্রির জন্য পাশের সিংড়া উপজেলায় অবস্থান করছিলেন এবং তার স্ত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। পরিবারের লোকজন না থাকার সুযোগেই দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে বাড়ির চারদিক থেকে একসাথে আগুন দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নাসিরউদ্দিন বলেন, এর আগেও আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা হয়েছে। গতকাল আমি বাড়িতে ছিলাম না, স্ত্রীও বাইরে ছিল। পরিকল্পনা করেই আগুন দেওয়া হয়েছে। আমার সব শেষ হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন খুবজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম দোলন।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি অত্যন্ত অসহায় অবস্থায় পড়েছে। দ্রুত উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
এলাকাবাসীরাও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি যাতে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে জন্য জরুরি সরকারি সহায়তার আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর থানার ওসি তদন্ত মো. আকবর আলী জানায়, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।