প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫, ১:১৪ পিএম আপডেট: ২১.০৮.২০২৫ ৪:৩৩ পিএম

একাদশ শ্রেণিতে অনলাইনে ভর্তিতে প্রথম ধাপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এ ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে ভর্তির সুযোগ পাননি ২৫ হাজার ৩৪৮ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছে জিপিএ-৫ পাওয়া ৫ হাজার ৭৬৫ জন। এছাড়া দেশের ৩৭৮টি কলেজ ভর্তির জন্য এক শিক্ষার্থীও পায়নি। এছাড়া ১০ কলেজে কেউ ভর্তির জন্য পছন্দক্রম (চয়েজ) দেননি।
বুধবার (২০ আগস্ট) রাতে প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম ধাপে আবেদন করেছেন মোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩১০ শিক্ষার্থী। তারা কলেজ পছন্দক্রম (চয়েজ) দিয়েছেন ৫৯ লাখ ২৮ হাজার ৫৬৭টি।
ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, স্বনামধণ্য গুটি কয়েক কলেজ থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থী সেসব কলেজের আবেদন করেন। দেখা যায় জিপিএ ৫ পেয়েও নম্বর কম থাকায় তারা ওসব কলেজের ভর্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের পরামর্শ প্রথম সারির ও মাঝামাঝি পর্যায়ের কলেজে ভর্তি আবেদন করা হলে কোন শিক্ষার্থীই কলেজ বঞ্চিত হবে না। ভর্তি আবেদনের দ্বিতীয় ধাপে তারা বিষয়টি বিবেচনা করবেন।
এদিকে অনলাইনে মোট আবেদনকারীর মধ্যে প্রথম ধাপে কলেজে ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ১০ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬২ জন। আর কোনো কলেজ পাননি ২৫ হাজার ৩৪৮ জন। চলতি বছর সারা দেশের ৮ হাজার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশে কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭৮ কলেজ ভর্তির জন্য এক শিক্ষার্থীও পায়নি। আবার ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ ভর্তির জন্য আগ্রহ দেখায়নি। সেখানে কেউ পছন্দক্রম দেয়নি।
শিক্ষাবোর্ড থেকে জানানো হয়, প্রকাশিত ফলের ভিত্তিতে যেসব শিক্ষার্থী কলেজ পেয়েছেন, তাদেরক নিশ্চায়ন ফি পরিশোধ করে নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ভর্তির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যমতে, রেজিস্ট্রেশন ফি বা নিশ্চায়ন ফি দেওয়ার জন্য বিকাশ, সোনালী ই-সেবা, সোনালী ওয়েব, ইউসিবি উপায়, ডিবিবিএল রকেট, ওয়ান ব্যাংক ওকে ওয়ালেট, ট্রাস্ট ব্যাংক ট্যাপ ও নগদের মধ্যে যেকোনো একটি থেকে ৩৩৫ টাকা ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের পদ্ধতির বিস্তারিত ভর্তির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে প্রথম ধাপে ৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়। এ সময়ে আবেদন করেন ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৩৩৬ জন শিক্ষার্থী। ভর্তি কমিটির সদস্যরা জানান, দেশের সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয়ভাবে একাদশে ভর্তির আবেদন নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে গত ৩০ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট রাত ৮টা পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হয়েছে। এইচএসসি ও আলিমের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য এ আবেদন নেওয়া হচ্ছে। কারগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া ভিন্নভাবে নেওয়া হয়। গত ১০ জুলাই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৩ লাখ তিন হাজার ৪২৬ জন পাস করেন। পরে ফল পুনর্নিরীক্ষণে ৪ হাজার ৭৯২ জন পরীক্ষার্থী পাস করেন। সবমিলিয়ে পাস করা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ লাখ ৮ হাজার ২১৮ জন। এরপরও এবার কলেজ পর্যায়ে প্রায় ২০ লাখ আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
জ/উ