প্রকাশ: বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫, ১০:৫৬ এএম

আইন লঙ্ঘন ও ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ৬ হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বাতিলের অন্যতম কারণ ছিল হামলা, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি ও ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’ করার মতো অভিযোগ। তবে ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট করে জানায়নি মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
সন্ত্রাসবাদে সমর্থন বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি স্টেট ডিপার্টমেন্ট। তবে ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানানোয় সম্প্রতি কিছু শিক্ষার্থীর ওপর নজর রাখছিল ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের যুক্তি এসব শিক্ষার্থীর আচরণে ‘ইহুদিবিদ্বেষ’ প্রকাশ পেয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এ পদক্ষেপ অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থানের অংশ। বাতিল হওয়া ছয় হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে চার হাজার জনের ভিসা বাতিল করা হয়েছে আইন ভঙ্গ করায়। ২০০ থেকে ৩০০ জনের ভিসা বাতিল হয়েছে ‘আইএনএ থ্রি-বি’ এর আওতায়। যুক্তরাষ্ট্রে ‘আইএনএ থ্রি-বি’ আইনে এমন অপরাধকে বোঝানো হয় যা মানুষের জীবনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত জুনে প্রক্রিয়া আবার শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সময় বলা হয়, সব আবেদনকারীকে তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো প্রকাশ করতে হবে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য এটির প্রয়োজন হবে। মার্কিন নাগরিক, সংস্কৃতি, সরকার, প্রতিষ্ঠান বা নীতির প্রতি আবেদনকারীদের বিদ্বেষমূলক কোনো কার্যক্রম আছে কি না তা যাচাই করতে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
গত মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, জানুয়ারি থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি এর নির্দিষ্ট সংখ্যা জানেন না। রুবিও তখন আরও বলেন, আমরা সেই সব ব্যক্তির ভিসা বাতিল অব্যাহত রাখব যারা অতিথি হয়ে এখানে এসে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।
ওপেন ডোরস নামের একটি সংস্থা জানায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টিরও বেশি দেশ থেকে আসা ১১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন।
জ/উ