
গত জুলাই মাসে সারাদেশে সড়ক, নৌ, রেল ও বিমানে ৫৫৫টি দুর্ঘটনায় ৬০২ জন নিহত এবং ১৫৭৬ জন আহত ও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছে। এরমধ্যে ৫০৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২০ জন নিহত হয়েছেন, আহত ১৩৫৬ জন। এই মাসে রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ৩১ জন নিহত, ৪১ জন আহতের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। নৌপথে ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত, ১৪ জন আহত ও ৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরীর গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে।
এছাড়াও গত ২১ জুলাই উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের হায়দার আলী ভবনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা ঘটে। এফ-৭ বিজিআই মডেলের বিমানটি মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ ৩৪ জন নিহত ও ১৬৫ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। দগ্ধদের মধ্যে ৪৮ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ।
মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে, জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আছেন ৩৬ জন ও মৃত্যু ১৭ জনের, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ১১ জন ও মৃত্যু ১৪ জনের, ঢাকা মেডিকেল কলেজে মারা গেছেন একজন, লুবনা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে মারা গেছেন একজন, ইউনাইটেড হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন একজন।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতিতে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, সারাদেশে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক-মহাসড়কে সৃষ্ট ছোট বড় গর্তের কারণে দ্রুতগামী যানবাহনে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। জরুরিভিত্তিতে এসব সড়ক-মহাসড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি বৃষ্টি সহনশীল সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের কৌশল উদ্ভাবনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১২২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৩০ জন নিহত ও ২৯৫ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। ২৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। ১৬২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৯ জন নিহত ও ১৪৪ জন আহত হয়েছে।
সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৯ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩১ জন চালক, ৯৭ জন পথচারী, ৬৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৩ জন শিক্ষার্থী, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ৫ জন শিক্ষক, ৭৮ জন নারী, ৬০ জন শিশু, ১ জন সাংবাদিক এবং ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।
এদের মধ্যে নিহতদের তালিকায়— ২ জন পুলিশ সদস্য, ১ জন মুক্তিযোদ্ধা, ১২০ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৯০ জন পথচারী, ৭০ জন নারী, ৫৬ জন শিশু, ৫০ জন শিক্ষার্থী, ১৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫ জন শিক্ষক ও ৯ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী। সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৭৪৮টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে।
এতে দেখা যায়, ২৬ দশমিক ০৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৪ দশমিক ১৯ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ বাস, ১৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৬ দশমিক ৮১ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৪ দশমিক ৯৪ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।