প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা বড় বাধা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৮:২৫ পিএম আপডেট: ২৪.০৭.২০২৫ ৮:২৮ পিএম

দেশে প্রতিনিয়ত প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা বাড়ছে। জন্মগতভাবে প্রতিবন্ধী হওয়ার পাশাপাশি দৈব দুর্বিপাক-দূর্ঘটনাসহ নানা কারণে অনেক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ প্রতিবন্ধীতার স্বীকার হচ্ছেন। আর এই প্রতিবন্ধীদের জন্য নাগরিক সুবিধা এবং আইন কাগজে কলমে থাকলেও তার কোনো প্রয়োগ নেই। ফলে প্রতিবন্ধীরা এক রকমের মর্যাদাহীন হয়ে সমাজে বসবাস করেন। 

এরমধ্যে সবচেয়ে নাজুক হলো নারী প্রতিবন্ধীদের অবস্থান। যোগ্যতা থাকা স্বত্ত্বেও অনেক প্রতিবন্ধী নারীকে শুধু প্রতিবন্ধী বলেই কাজ দেয়া হয় না। আবার কাজ পেলেও প্রবেশগম্যতা সহজ নয় বলে নানা বাধার সৃষ্টি হয়। প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য প্রবেশগম্যতা বড় বাধা। 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪ কিমি যানজট

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ১৪ কিমি যানজট








গতকাল বৃহস্পতিবার ‘প্রতিবন্ধী নারীদের অন্তর্ভূক্তিমূলক অধিকার ও সেবাসমুহ’ বিষয়ক সেমিনারে প্রতিবন্ধী নারীরা আলোচনায় অংশ নিয়ে তাদের ভোগান্তি ও অবহেলার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রতিবন্ধী নারীদের উন্নয়ন ফাউন্ডেশন উইমেন উইথ ডিজ্যাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন(ডব্লিউডিডিএফ) এর আয়োজনে ও উইমেন্স ফান্ড এশিয়ার (ডব্লিউএফএ) আর্থিক সহযোগিতায় রাজধানী ঢাকার ডেইলি স্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে এ সেমিনা অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যাকসেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যালবার্ট মোল্লা। ডাব্লিউডিডিএফ-এর চেয়ারপারসন ও কর্মসূচি পরিচালক শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি  ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সায়েদুর রহমান খান, বিশেষ অতিথি ব্যারিষ্টার সারা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তানিয়া হক, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক  গোলাম ফারুক হামিম, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র (বিএনএসকে) সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু। 

এছাড়া প্যানেল আলোচক হিসেবে সেমিনারে উপস্থিতি ছিলেন বাংলাদেশে সোসাইটি ফর চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) প্রতিষ্ঠাতা এবং মহা সচিব সালমা মাহবুব, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) রাইটস অ্যান্ড গর্ভানেন্স-এর কর্মসূচি সমন্বয়ক নাজরানা ইয়াসমিন হিরা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম সিদ্দিকী। 

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডাব্লিউডিডিএফ-এর শারমিন আক্তার দোলন। 

সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন (ডাব্লিউডিডিএফ)-এর নির্বাহী পরিচালক আশরাফুন নাহার মিষ্টি।

মূল প্রবন্ধে এবং আলোচনায় প্রতিবন্ধী নারীদের প্রবেশগম্যসহ আইন সংস্কার ও বাস্তবায়ন জোরদার করণে সুপারিশ করা হয়। বলা হয়, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও বিধিমালায় প্রতিবন্ধী নারীদের সুনির্দিষ্ট চাহিদা ও ঝুঁকির বিষয়টি আরও বিশদভাবে অন্তর্ভুক্ত করে আইন ও বিধিমালার সময়োপযোগী সংস্কার ও আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যা প্রতিবন্ধী নারীদের সম্মানজনক জীবনযাপন ও সমাজে পূর্ণ অংশগ্রহণের পথ সুগম করবে।

এছাড়া প্রতিবন্ধী নারীর সঠিক সংখ্যা নিরূপণ, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিস্তার, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এবং কর্মপযোগী প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিষয়ে জোর দিয়ে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির কোটা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী নারীদের অগ্রাধিকার, প্রতিবন্ধী নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রোগ্রামে অগ্রাধিকার, ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে অ্যালবার্ট মোল্লা প্রতিবন্ধী নারীদের বর্তমান অবস্থান, তাদের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। এসব বাধা থেকে উত্তরণের জন্য করণীয় তুলে ধরা হয় প্রবন্ধে।  তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণের হার মাত্র ১১.৩৪%। জাতীয় প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জরিপ ২০২১ অনুযায়ী প্রতিবন্ধী নারীদের প্রায় ৯৩% কর্মসংস্থান থেকে বঞ্চিত (পুরুষদের হার যেখানে ৫৯%)। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সায়েদুর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের জন্য অনেকগুলো উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিবন্ধীদের জন্য মধ্যে একটা আলাদা সেল গঠন করা হয়েছে। এই সেলে সবার নাম অন্তর্ভূক্ত থাকবে। ফলে প্রতিবন্ধীদের ডাটা তৈরিতে এটি সহায়ক হবে। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধীরা যেন ঘরে বসে যুক্ত হতে পারেন সে জন্য অ্যাপ তৈরি হচ্ছে।  

তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্যও সরকার কাজ করছে। এছাড়া তাদের আর্থিক বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারের পক্ষ থেকে নানা ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

সালমা মাহবুব (নির্বাহী পরিচালক এক্সেস বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন) বলেন, পাবলিক টয়লেট থাকলেও নারীরা খুব একটা যায় না। প্রতিবন্ধী নারীদের ক্ষেত্রে তো কথায় নেই। যখন কোনো পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী থাকে তাদের সোচ্চার হওয়ার বিষয়টি আসে না। তাদের জন্য যেসব সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রতিবন্ধী নারীদের বিষয়টি আসেনি। তাদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বিষয়টার জোর দিতে হবে। নারী উন্নয়ন ৩৯ নীতিমালায় বিশেষ জোর দিতে হবে। 

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর নাজরানা ইয়াসমিন হিরা বলেন, নারী সংগঠনের নেত্রীরা আসে না ফান্ড হবে কিভাবে? আমরাও দায়ী। আমরা তাদের সংযুক্ত করতে পারি না। এ সংগঠনগুলোকে লিগ্যালি আনা আমরা উদ্বুদ্ধ করি। অন্যদিকে এনজিওগুলোর জটিলতার কারণে আমরা এ সাথে হতে পারি না। বড় সংগঠনগুলো চাই না ছোট সংগঠনগুলো ফান্ড পাক। এই ছোট ছোট সংগঠনগুলোকে ট্রেনিং করাতে হবে। কিভাবে কাজ করলে সংযুক্ত হতে পারে, যদিও আইনে বলা আছে বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বাজেট আছে কিনা প্রতিবন্ধী মানুষকে কেউ ডাকে না। ফান্ড দিতে হবে। নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে।

ফরিদা ইয়াসমিন (নির্বাহী ডিআরআর) বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য কোনো কর্ণার নেই অধিদপ্তরে। সরকারের পাঁচ বিভাগে কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেম নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু বলেন, যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সে অন্যদিকে ভালো। যার হার্টে সমস্যা তার পায়ে জোর আছে। এভাবে বিবেচনা করে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি তাহলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে জাতির জন্য একটা বিরাট শক্তি হতে পারে। তাদেরকে এভাবে দেখছি না। আসলে আমাদের সচেতনতা দরকার। মানুষের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। আমাদের দেশে নারীকেই তো মানুষ মনে করে না। তাকে একটা প্রতিবন্ধী মনে করে, ফেলে রাখে এক কোণে। বেগম রোকেয়া শুরু করেছিলেন তারপরও দেখছি এতো বছর বলে যাচ্ছি, আমাদের যুদ্ধ করে যাচ্ছি। বেশিরভাগ অফিসে এখনো মেয়েদের জন্য টয়লেট নেই। তার সাথে যুক্ত প্রতিবন্ধী নারী। তাদের প্রবেশগম্যতার জন্য সচেতনতার ব্যাপার। আমরা নারীদের প্রতি, মানুষের প্রতি আর বিশেষ নারীদের প্রতি যদি আমরা সচেতন হই সেগুলো আমরা করতে পারি। যে আইনগুলো আছে সেগুলোর বাস্তবায়ন করতে হবে।  

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft