বাংলাদেশে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৫, ৭:২৫ পিএম

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক। 

গতকাল সোমবার (২৮ এপ্রিল) এই মার্কিন নন-জিওস্টেশনারী অরবিট স্যাটেলাইট সার্ভিস অপারেটর (এনজিএসও) এর লাইসেন্স অনুমোদন করেন তিনি। 

এর ফলে শ্রীলঙ্কার পর দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় দেশ হিসেবে স্টারলিংকের সেবা পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) কর্তৃক নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করে এবং প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধ সাপেক্ষে স্টারলিংক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছিল। গত ২১ এপ্রিল বিটিআরসি'র ২৯৪তম কমিশন সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে লাইসেন্স প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনের মাধ্যমে চূড়ান্ত হলো।

এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকা, যেমন হাওর, বাঁওড়, দ্বীপাঞ্চল এবং পার্বত্য অঞ্চলে যেখানে প্রচলিত ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক পৌঁছায়নি, সেখানে নিরবচ্ছিন্ন ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই প্রসঙ্গে বলেন, গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় পূর্ববর্তী সরকারের ঘন ঘন ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনার পর স্টারলিংকের মতো সেবা চালুর একটি জোরালো গণদাবি তৈরি হয়েছিল। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অনুমোদনের মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

ফয়েজ তৈয়্যব জানান, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস নিজে উদ্যোগী হয়ে স্পেসএক্স-এর সিইও ইলন মাস্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সমন্বিতভাবে কাজ করেছে।

স্টারলিংকের সেবার বিশেষত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, লোডশেডিং বা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়ও এর ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হবে না, যা প্রচলিত আইএসপি বা মোবাইল নেটওয়ার্কের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়াও, দেশের বেশিরভাগ মোবাইল টাওয়ার এখনও ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় না আসায় এবং বিদ্যমান নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় মানসম্মত সেবা দেওয়া সম্ভব হয় না। স্টারলিংক এই সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে।

প্রত্যাশা করা হচ্ছে, স্টারলিংকের প্রবেশ দেশের ব্রডব্যান্ড ও মোবাইল ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে এবং গতানুগতিক ভয়েস কল ও ডেটা বান্ডেল নির্ভর সেবা থেকে ডিজিটাল সার্ভিস কেন্দ্রিক মডেলে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে। এর মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে ডিরেগুলেশনের সূচনা হবে এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে ইন্টারনেট প্রাপ্তির বৈষম্য কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft