আগামীর ট্রেন্ডিংয়ে যে ৫ প্রযুক্তি
প্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:৫৪ পিএম

আগামী বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী প্রবণতাগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে আবারও এআই (AI) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে ২০২৬ সাল যত ঘনিয়ে আসছে, আলোচনা কেবল এআই কী করবে বা করবে না তা নিয়ে সীমাবদ্ধ নেই। বরং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরকার এবং ব্যক্তি হিসেবে আমরা এই বিশাল পরিবর্তনের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নেব এবং বিকশিত হব, সেটাই এখন মূল বিষয়। অন্যান্য প্রযুক্তিরও ভূমিকা থাকবে, তবে এআই-এর প্রভাব থেকে কেউ মুক্ত থাকতে পারবে না। তাই এখানে আজ যে প্রবণতাগুলোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সেগুলো নির্দিষ্ট কোনো প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং আমাদের জীবনে সেগুলোর প্রভাব এবং পরিবর্তনের ওপর আলোকপাত করে।

এই প্রবণতাগুলোর কোনোটিই বিচ্ছিন্নভাবে ঘটবে না, আর এআই হলো সেই সুতো যা এদের একসঙ্গে গেঁথে রেখেছে। আগামী ১২ মাসে উদ্ভাবন এবং পরিবর্তনের পেছনে কাজ করবে এই প্রধান ৫টি শক্তি।

এআই-এর রূপান্তর : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমরা দেখেছি শিল্প-কারখানা, সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ এআই-এর অভাবনীয় প্রভাবের সঙ্গে মানিয়ে নিতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব নিয়ে বড় কিছু প্রশ্নের উত্তর আমরা পেতে শুরু করব। এখন মনোযোগ কেবল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বদলে এই নতুন ও ভিন্ন বিশ্বের উপযোগী করে নিজেদের পুনর্গঠন এবং নতুন রূপ দেওয়ার দিকে ধাবিত হবে। স্বাস্থ্যসেবায় এর অর্থ হবে গবেষণালব্ধ সমাধানগুলোকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করা। মিডিয়া ও বিপণন খাতে এর অর্থ হবে এমন সিস্টেম তৈরি করা যা ডিজিটাল পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। এআই এখন আমাদের সময় বাঁচাবে এবং একঘেয়ে কাজগুলো কমিয়ে দিয়ে আমাদের আরও স্মার্টলি এবং নিরাপদে কাজ করার সুযোগ করে দেবে। ২০২৬ সালে সফল হতে হলে এআই-কে ভয় পাওয়া বা বাধা দেওয়া নয়, বরং এর তৈরি করা সুযোগগুলোকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার পরিকল্পনা করতে হবে।

আরও পড়ুন : ভিডিও জগতে নতুন আপডেট আনল অ্যাডোবি

এজেন্টিক বিপ্লব : ২০২৫ সালে প্রযুক্তি বিশ্বে ‘এজেন্ট’ শব্দটি ছিল সবচেয়ে আলোচিত। এটি চ্যাটবট বা সাধারণ জেনারেটিভ এআই-এর তুলনায় এক বড় বিবর্তন। এজেন্টরা কেবল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা কন্টেন্ট তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তারা আমাদের হয়ে কাজ করবে। ২০২৬ সালে এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের খুব স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে। ব্যবসার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে শুরু করে পরিবারের ব্যস্ত সময়সূচি ব্যবস্থাপনা সবই সামলাবে এই এআই এজেন্টরা। এর ফলে আমরা বড় কোনো লক্ষ্য বা জীবনকে উপভোগ করার জন্য বাড়তি সময় পাব। আগামী বছরগুলোতে আমরা শিখব কীভাবে এই এজেন্টদের ওপর আস্থা রাখা যায় এবং তারা কীভাবে আমাদের বুদ্ধিমান সহকর্মী বা সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের বাস্তবমুখী ব্যবহার : কোয়ান্টাম কম্পিউটিং অতিপারমাণবিক স্তরের কণাগুলোর আচরণ কাজে লাগিয়ে জটিল কাজগুলো সাধারণ কম্পিউটারের চেয়ে কয়েক মিলিয়ন গুণ দ্রুত সম্পন্ন করতে পারে। এক দশক ধরে এটি গবেষণাগারেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু ২০২৬ সালে আমরা বাস্তব বিশ্বে এর প্রয়োগ দেখতে শুরু করব। যদিও এটি সরাসরি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দৃশ্যমান প্রভাব ফেলবে না, তবে ব্যবসা, শিল্প এবং বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এর পরিবর্তন হবে সুদূরপ্রসারী।

যেমন আর্থিক মডিলিংয়ের ক্ষেত্রে এটি বিনিয়োগের ঝুঁকি আরও নিখুঁতভাবে মূল্যায়ন করবে। ওষুধ আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এটি গবেষণার সময় ও ব্যয় কমিয়ে নতুন ওষুধ তৈরিতে সহায়তা করবে। এ ছাড়া লজিস্টিক বা সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করে তুলবে এই প্রযুক্তি। একে কম্পিউটারের ইতিহাসের এক নতুন যুগ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন : জেনে নিন ফেসবুক পাসওয়ার্ড খুঁজে বের করার সবথেকে সহজ পদ্ধতি

প্রযুক্তির জ্বালানি সংকট মোকাবিলা : ভবিষ্যতের অবকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে জ্বালানি ব্যবহার এখন আর কোনো গৌণ বিষয় নয়। এআই-এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বের বড় সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য এটি একটি মৌলিক ভিত্তি। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহারের ৪ শতাংশই ছিল ডেটা সেন্টারগুলোর দখলে, যা এই দশকের শেষ নাগাদ দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ২০২৬ সালে মূল লক্ষ্য থাকবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে মনোযোগ দেওয়া। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল, বায়োফুয়েল এবং মডুলার নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর বা পারমাণবিক চুল্লির মতো নতুন শক্তি সমাধানগুলো এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে প্রযুক্তির এই বিশাল চাহিদা মেটানোই হবে আগামী বছরের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।

মানবিক গুণাবলির গুরুত্ব : প্রযুক্তি যখন দক্ষতার দিক থেকে মানুষের সমান হয়ে উঠছে, তখন ২০২৬ সালে মানুষের নিজস্ব গুণাবলিগুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। মেশিন আমাদের কোথায় সাহায্য করতে পারে এবং কোথায় মানুষের স্পর্শ বা অনুভূতি অপরিহার্য- সেই পার্থক্য বোঝাটা জরুরি হয়ে পড়বে। ডিপফেক বা কৃত্রিম কন্টেন্টের ভিড়ে আসল মানবিক কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়া একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এ ছাড়া চ্যাটবট বা ভার্চুয়াল জগতের মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা বাড়বে। উদ্ভাবন যেমন দক্ষতা বাড়ায়, তেমনি সহানুভূতি ও নৈতিকতার মতো মানবিক গুণাবলিকেও যেন আরও শক্তিশালী করে, সেদিকে নজর দিতে হবে। ব্যবসা এবং সমাজ শেষ পর্যন্ত মানুষের সততা, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, দলবদ্ধ কাজ এবং কৌশলগত চিন্তার মূল্য দেবে, যা কোনো ‘প্রম্পট’ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। সূত্র : আমাদেরসময়

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft