প্রকাশ: রোববার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ পিএম

ইতালী যাওয়ার পথে লিবিয়ায় দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ৬ যুবক। পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে দাবী করা হচ্ছে দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ। সেখানে তাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। দাবিকৃত টাকা অনাদায়ে প্রতিনিয়ত চলছে অমানবিক নির্যাতন। ভূক্তভোগী পরিবার এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেছেন।
ভূক্তভোগীরা হলেন উপজেলার খিলা ইউপির দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) ও উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহআলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।
ভূক্তভোগী মানিক মিয়ার পিতা মাহবুবুর রহমান জানান, তার নিজ গ্রামের (দিশাবন্দ) বাসিন্দা বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে ইতালি নেয়ার কথা বলে প্রায় ৯ মাস আগে তার ভাই সামছুল আলম ২০ লক্ষ টাকা নেন। টাকা নেয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কিছুদিনের মধ্যে তাকে ইতালি নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়ে তাকে দালালের হাতে তুলে দেয়া হয়। বর্তমানে দালাল চক্রের হাতে জিম্মি আমার ছেলে, মুক্তিপণের নামে তাকে করা হচ্ছে নির্যাতন এ কথা বলে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
একই অভিযোগ করেছেন উপজেলার লক্ষণপুর ইউপির বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলম। তিনি বলেন ৮ মাস আগে নগদ ১৮ লক্ষ টাকা জমা দিয়ে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া পাঠান। এ বিষয়েও দফারফা হয় মানিকের ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে। বর্তমানে দালালের খপ্পরে পড়ে লিবিয়ায় মুক্তিপনের টাকার জন্য সেও নির্যাতনের শিকার।
ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন তাদের সন্তানদের ইতালি পাঠানোর উদ্দেশ্যে লিবিয়া নিয়ে প্রায় ৮ মাস তার কাছে (মানিক) রেখে অন্য দালালের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। দালালের হতে তুলে দেওয়ার পর গত ১৫/২০ দিন ধরে তাদের উপর চালানো হচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। এদের জনপ্রতি ২৭ লক্ষ টাকা করে দাবী করা হচ্ছে মুক্তিপণ। ওখানে দাবীকৃত টাকার যোগান দিতে না পারায় তাদের পরিবারের কাছে ইমু, হোয়াটসআ্যাপে পাঠানো হচ্ছে নির্যাতনের ধারণকৃত ভিডিও। ভূক্তভোগীদের নির্যাতনের এসব ভিডিও হাতে পেয়েপরিবারের সদস্যরা অসহায় পড়েছেন।
এদিকে দালালের খপ্পরে পড়া ভূক্তভোগী সদস্যদের নির্যাতনের ভিডিওচিত্র এলাকায় জানাজানি হলে গত ১০/১২ দিন থেকে মানিকের ভাই সামছুল আলমসহ পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। দালালের হাতে উঠিয়ে দেওয়ার পর লিবিয়ায় থেকে মানিকও ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ফোন ধরছেন না। এ বিষয়ে ভূক্তভোগী পরিবার তাদের সন্তানদের ফিরে পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে কথা হলে মনোহরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদ আহমেদ বলেন, অবৈধ পথে কে কোথায় কোন দালালের মাধ্যমে কোথায় গিয়ে কিভাবে আছে এ ধরনের কোন সুনিদৃষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নাই।