প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৩৪ এএম

নতুন জুতা কেনার আনন্দ অনেক সময়ই ম্লান হয়ে যায় প্রথমবার পরেই। একটু হাঁটতেই গোড়ালি বা পায়ের আঙুলে জুতা ঘষে চামড়া উঠে যায়, তৈরি হয় ব্যথাযুক্ত ফোস্কা। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ব্যান্ডেজ বা ব্যান্ড-এইড ব্যবহার করেন। তবে এটি সাময়িকভাবে ক্ষত ঢেকে রাখলেও সমস্যার মূল কারণ দূর করে না।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন জুতার শক্ত অংশের সঙ্গে ত্বকের অতিরিক্ত ঘর্ষণের কারণেই ‘শু বাইট’ বা ফোস্কা তৈরি হয়। তাই জুতা পরার পর চিকিৎসা করার চেয়ে, আগে থেকেই কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করলে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
পেট্রোলিয়াম জেলি বা নারিকেল তেল ব্যবহার করুন
নতুন জুতা প্রথম কয়েকবার পরার আগে জুতার শক্ত হিল বা ভেতরের শক্ত অংশে পেট্রোলিয়াম জেলি লাগিয়ে সারারাত রেখে দিতে পারেন। এতে জুতোর উপাদান কিছুটা নরম হয়ে যায়। পাশাপাশি জুতা পরার আগে গোড়ালি বা আঙুলের পাশে সামান্য নারিকেল তেল লাগালে ত্বকের ওপর একটি সুরক্ষামূলক স্তর তৈরি হয়, যা ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
ট্যালকম পাউডার ছড়িয়ে নিন
অতিরিক্ত ঘাম জুতার ভেতরে ঘর্ষণ বাড়িয়ে ফোস্কার ঝুঁকি তৈরি করে। এ ক্ষেত্রে ট্যালকম পাউডার কার্যকর হতে পারে। জুতা পরার আগে পা এবং জুতার ভেতরে অল্প পরিমাণ পাউডার ছড়িয়ে নিলে এটি ঘাম শুষে নেয় এবং পা শুষ্ক রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘর্ষণ কমে যায়।
শুকনো সাবান ঘষে নিন
নতুন জুতার যে অংশ বেশি শক্ত বা ধারালো মনে হয়, সেখানে শুকনো সাবানের টুকরো হালকা করে ঘষে নিতে পারেন। সাবানের মসৃণ স্তর জুতার ভেতরের ঘর্ষণ কমিয়ে দেয়, ফলে হাঁটার সময় ত্বকে কম চাপ পড়ে এবং ফোস্কা হওয়ার আশঙ্কাও কমে।
আরও কিছু পরামর্শ
নতুন জুতা প্রথম দিন দীর্ঘ সময় না পরে অল্প সময় ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে মোজা পরে নতুন জুতা ব্যবহার করুন। জুতার মাপ ঠিক আছে কি না, কেনার সময় নিশ্চিত হয়ে নিন। অতিরিক্ত আঁটসাঁট বা ঢিলেঢালা জুতা ফোস্কার ঝুঁকি বাড়ায়।
সামান্য কিছু প্রস্তুতি নিলেই নতুন জুতার কারণে হওয়া অস্বস্তিকর ফোস্কা এড়ানো সম্ভব। ফলে ব্যথা বা অস্বস্তি ছাড়াই নতুন জুতা পরার আনন্দ উপভোগ করা যাবে।
জ/উ