মালদ্বীপের এমএনইউতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের বই উপহার, শিক্ষা-গবেষণা সহযোগিতায় জোর
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম

বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এমএনইউ)-তে একটি বই হস্তান্তর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় ‘Power of Bonding and Non-Western Soft Power Strategy’ শীর্ষক গ্রন্থ। বইটির লেখক মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমএনইউর উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম আনুষ্ঠানিকভাবে বইটি গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, প্রধান গ্রন্থাগারিক, শিক্ষক, গবেষক, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা, প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে এমএনইউর প্রধান গ্রন্থাগারিক হুসেইন হালিম বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গবেষণা ও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে শিক্ষা সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার কেবল বই সংরক্ষণের স্থান নয়; এটি জ্ঞান সৃষ্টি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তার রচিত গ্রন্থটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, কূটনীতি, সফট পাওয়ার এবং বৈশ্বিক রাজনীতিতে ক্ষুদ্র ও মধ্যম রাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে গবেষণায় সহায়ক হবে।

তিনি ‘পাওয়ার অব বন্ডিং’ ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পারস্পরিক আস্থা, সম্মান, বন্ধুত্ব, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কই আধুনিক সফট পাওয়ারের মূল ভিত্তি। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের বিদ্যমান সম্পর্ককে এ ধারণার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

হাইকমিশনার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য, পর্যটন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা তুলে ধরে ভবিষ্যতে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, একাডেমিক সেমিনার, বৃত্তি কর্মসূচি ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে এমএনইউর উপাচার্য ড. আইশাথ শেহেনাজ আদম বলেন, হাইকমিশনারের লেখা বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের জন্য মূল্যবান সংযোজন হবে এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তিনি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভবিষ্যতে আরও ঘনিষ্ঠ একাডেমিক ও গবেষণা সহযোগিতা গড়ে তোলার আগ্রহও প্রকাশ করেন।

আয়োজকদের মতে, এ আয়োজন শিক্ষা কূটনীতি, জ্ঞান বিনিময় এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন এবং দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft