২০২৯ সালে চালু হবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর: নৌপরিবহনমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৫ এএম

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বন্দরটি চালু হলে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রায় ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ এবং প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) ধারণক্ষমতার মালবাহী জাহাজ সরাসরি নোঙর করতে পারবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় বড় আকারের 'মাদার ভেসেল' সরাসরি ভিড়তে পারে না। ফলে অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য সিঙ্গাপুর, কলম্বো ও মালয়েশিয়ার মতো আঞ্চলিক ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের মাধ্যমে দেশে আনতে হয়। এতে সময় ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পায়।

তিনি জানান, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরে প্রায় ১৬ মিটার গভীরতার নৌ-চ্যানেল এবং আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি চালু হলে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ভেড়ানো জাহাজের তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি ধারণক্ষমতার জাহাজ সরাসরি বার্থিং নিতে পারবে। এর ফলে বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পণ্য পরিবহন ও খালাস কার্যক্রম আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও দক্ষ হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ট্রানজিট কার্যক্রমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিং সংযোগ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। জাহাজ থেকে কনটেইনার খালাস ও ডেলিভারি কার্যক্রমের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ ১০ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারে। তবে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে ১২ থেকে ১৪ মিটার ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া বন্দরের জট কমাতে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা ১০ হাজারের বেশি টিইইউ কনটেইনার নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি এবং জাহাজ আগমনের আগেই পণ্য ছাড়করণের জন্য ‘প্রি-অ্যারাইভাল প্রসেস’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে বন্দরের উৎপাদনশীলতা ও কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft