
ধলাই নদীর তীর ঘেঁষে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের বাসিন্দারা। তাদের দাবি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে উত্তর আলেপুর, চণ্ডীপুর ও দক্ষিণ কুমড়াকাপন গ্রামের বসতবাড়ি, কবরস্থান, কৃষিজমি এবং নদীতীর রক্ষা বাঁধ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে।
আজ শুক্রবার দুপুরে কমলগঞ্জ পৌর এলাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। পরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, কৃষক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন- দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে ধলাই নদীর তলদেশ থেকে বাণিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলন করছে। বিশেষ করে নদীতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু তোলার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীতীর রক্ষা বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি, কবরস্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিস্তীর্ণ কৃষিজমি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধন শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- আবুল হোসেন, জমসেদ মিয়া, আজাদ মিয়া, মহরম মিয়া, মনাই মিয়া, মন্নান মিয়া, নজরুল মিয়া, আলাল মিয়া, নূরুল ইসলাম, শিবলু ও নজরুল ইসলাম বুলবুলসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তাদের ভাষ্য, বৈধ ইজারাভুক্ত স্থান থেকে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলনে আপত্তি নেই। তবে নদীতীর ঘেঁষে ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে নদীতীর রক্ষা বাঁধ দ্রুত সংস্কার ও স্থায়ীভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তারা।
কমলগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ জামাল হোসেন বলেন, নদীতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীতীর রক্ষা বাঁধ, কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও কবরস্থান রক্ষা করা কঠিন হবে। তাই ইজারার শর্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে।
এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, নদীতীরের বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ইজারাদারদের সঙ্গে আলোচনা করে নদীতীর সংলগ্ন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি নদীতীর রক্ষা বাঁধ সংস্কার ও নির্মাণের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।