প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:০৬ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি বিক্রি নিয়ে বিএনপির দুই নেতার দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। খালের মাটির বৈধ ইজারা নিয়েও প্রতিপক্ষের বাধার মুখে পড়েছেন এক বিএনপি নেতা। চাঁদা না দেওয়ায় খননকাজে ব্যবহৃত এস্কেভেটরের চালককে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ উভয় পক্ষকে সমঝোতার পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডুমরাই খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাটি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১ লক্ষ ৬২ হাজার ১শ ২৫ টাকায় ইজারা পান ডুমরাই গ্রামের বাসিন্দা ও দয়ারামপুর ইউনিয়ন ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফ সোনার। চুক্তি অনুযায়ী, তিনি খননকাজের অতিরিক্ত মাটি বিক্রি করতে পারবেন।
তবে লতিফ ইজারা পাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হন একই ইউনিয়নের বিএনপির সাবেক সভাপতি সাজদার রহমান। তিনি বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনে পুনঃদরপত্রের চেষ্টা করলেও সে চেষ্ট ব্যর্থ হয়ে যায়। পরবর্তীতে, স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের চাপে লতিফ সোনার ১ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকার বিনিময়ে সাজদার রহমানকে মাটি বিক্রির স্বত্ব দিয়ে দেন। কিন্তু দুদিন পরেই সাজদার রহমান জানতে পারেন, নথিপত্রে বৈধ ইজারাদার হিসেবে লতিফ সোনারের নামই থাকছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি টাকা ফেরত চাইলে লতিফ সোনার তা ফেরত দেন। এরপর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
ইজারাদার লতিফ সোনার অভিযোগ করেন, আমি বৈধ ইজারাদার হলেও সাজদার রহমান ও তার লোকজন আমাকে মাটি বিক্রি করতে দিচ্ছে না। তারা বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করছে। সবশেষ গত ৪ জুলাই চাঁদা না দেওয়ায় সাজদারের সমর্থকরা আমার এস্কেভেটরের চালককে মারধর করে। আমি বৈধভাবে ব্যবসা করতে চাই।
হামলার শিকার এস্কেভেটর চালক মনজুরুল আলম বলেন, কয়েকজন এসে আমাকে কাজ বন্ধ করতে বলে। আমি ঠিকাদারের কথায় কাজ চালু রাখলে তারা আমাকে মারধর করে। এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তারা বলছে, নিজেদের মধ্যে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাজদার রহমান। তিনি বলেন, খাল খননের কোনো বিষয়ের সঙ্গে আমি জড়িত নই। তবে লতিফ সোনারের কাছ থেকে টাকা দিয়ে ইজারা কিনে নেওয়ার চেষ্টার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। চালককে মারধরের বিষয়ে তিনি বলেন, অন্য কারো ব্যাক্তিগত অপরাধের দায় তো আমি নেব না। দয়ারামপুর ইউনিয়নে অনেক লোক বিএনপি করে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা সকলেই ছাত্রদল করে। তাই বলে তাদের অপরাধের দায় তো আমার না।
এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, একটি অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছিল। বিষয়টি তদন্তের জন্য এসআই রতনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।