প্রকাশ: রোববার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নারীর ক্ষমতায়ন এখন শুধু উন্নয়নমূলক বিষয় নয়, বরং জাতীয় প্রয়োজন। তিনি বলেন, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি মিলনায়তনে ‘ইমপাওয়ার উইমেন ফর ক্লাইমেট রেজিলেন্ট সোসাইটিস (ফেজ-টু)’ প্রকল্প আয়োজিত জাতীয় অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সম্প্রসারণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, খরা ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগে দেশের গ্রামীণ নারীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাই তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা এবং অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার নারীর ক্ষমতায়নে দৃঢ়ভাবে কাজ করছে। সামাজিক সুরক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইমপাওয়ার প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত সফল অভিজ্ঞতাগুলো দেশব্যাপী সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারীরা স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও জীবিকা কার্যক্রমে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি জাতীয় নীতি প্রণয়ন থেকে তৃণমূল বাস্তবায়ন পর্যন্ত সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জলবায়ু পরিকল্পনায় জেন্ডার-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ইউএন ওমেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি শিংসহ সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, গবেষক, এনজিও প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন জেলার নারী উদ্যোক্তারা অংশ নেন। কর্মশালায় প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমের সফলতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয় এবং সেগুলো দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
জ/উ