প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১২:৫১ পিএম

স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স ও মিডওয়াইফদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, কেবল চিকিৎসকদের দিয়ে স্বাস্থ্যখাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। দেশে বর্তমানে নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং এ ক্ষেত্রে জনবল আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স ও মিডওয়াইফদের সক্ষমতা ও সংখ্যা বৃদ্ধি জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে বর্তমানে বিদ্যমান নার্স ও মিডওয়াইফের সংখ্যা আরও ৩ থেকে ৫ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ চিকিৎসক শহরাঞ্চলে কর্মরত থাকলেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন। ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনতে গ্রামীণ পর্যায়ে জনবল ও সেবার পরিধি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণের প্রসঙ্গ তুলে ডা. এম এ মুহিত বলেন, চিকিৎসক ও প্রকৌশলীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজের সুযোগ থাকলেও দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় তাদের সংখ্যা ও সক্ষমতা আরও বাড়ানো জরুরি। তবে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য বিদেশে যাওয়াকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশ থেকে বৃহৎ পরিসরে চিকিৎসক ও নার্স বিদেশে পাঠানোর মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। এ খাতে পর্যাপ্ত মানবসম্পদ গড়ে তোলার পর এ বিষয়ে আরও পরিকল্পিতভাবে ভাবা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য মহামারি ও সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ও উদ্যোগকে বাজেটের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার টেকসই উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জ/উ