প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ পিএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তের ওপারে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের গাড়িতে এনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিএসএফ এর বিরুদ্ধে। পুশইনের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। সীমান্তবর্তী বাসিন্দা নারী ও শিশু নিয়ে নিরাপদে যান এবং পুরুষরা বিজিবির পাশাপাশি পাহাড়া দিতে থাকেন।
সীমান্তবাসী জানান, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার রৌমারী সদর ইউনিয়নের ভুন্দুর চর, চর নতুন বন্দর, চান্দার চর ও নওদাপাড়া সীমান্তের ১০৬৬ থেকে ১০৬৩ নম্বর পিলারের পিলার পুশইনের চেষ্টা চালায় ভারতীয় বিএসএফ। এই খবর পেয়ে সাথে সাথে লাঠিসোঁটা হাতে নিয়ে ছুটে যান গ্রামবাসী। বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা সীমান্তে শক্ত অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রৌমারী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে শনিবার রাতের অন্ধকারে দিকে একই সীমান্তের ‘সুদুরটিলা’ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ট্রাকে করে বেশ কিছু মানুষকে সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে নিয়ে আসে। উদ্দেশ্য ছিল রাতের অন্ধকারে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইন করা। ওই সময় সীমান্ত এলাকায় টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তাৎক্ষণিক শক্ত অবস্থান নেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সীমান্তের সাধারণ মানুষও বিজিবির সমর্থনে লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে আসেন এবং সীমান্তে অবস্থান নেন। বিজিবি ও এলাকাবাসীর এই অনড় অবস্থান দেখে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
সীমান্তের বসবাসরত বাসিন্দা গোলাম রব্বানী বলেন, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা আমাদের আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে আমরা জানতে পেরেছি ভারতের আসাম রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসলিম নারী, পুরুষ ও শিশুদের ধরে এনে সীমান্ত ক্যাম্পগুলোতে জড়ো করা হচ্ছে। তাদেরকে সুযোগ বুঝে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে বিএসএফ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, সোমবার রাতে বিএসএফ সদস্যরা সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দিয়ে কিছু মানুষকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নামানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবি ও এলাকাবাসীর যৌথ এবং শক্ত অবস্থানের মুখে তারা সফল হতে পারেনি। রবিবার রাতেও বিএসএফ কিচু মানুষকে এনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসী সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির বাংলাবাজার বিওপির সুবেদার আলতাফ হোসেন বলেন, সীমান্তের ওপারে ক্যাম্পে লোকজন ধরে এনে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। গ্রামবাসীসহ আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। কোনোক্রমেই অবৈধ পুশইন হতে দেওয়া হবে না। জনবল কম থাকায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপির সদস্যরা সহযোগিতা করলে আমাদের টহলের আরো সুবিধা হতো। তবে সীমান্ত আপাতত শান্ত রয়েছে।