বন্ধ শিল্পকারখানা চালুতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ৩:৫৩ পিএম

বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রাক-অর্থায়ন স্কিম চালু করেছে সরকার। ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য ব্যবহার করে গঠিত এ তহবিলের মাধ্যমে বন্ধ কারখানা সচল করা, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই মূল লক্ষ্য।

গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এক সার্কুলারে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিন বছর মেয়াদি এ স্কিম সরকারের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার ‘উৎপাদন ও কর্মসংস্থান পুনরুজ্জীবন’ প্রণোদনা প্যাকেজের অংশ।

সার্কুলার অনুযায়ী, বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠান এ সুবিধা পাবে, যেগুলো সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে কিংবা কার্যকর মূলধনের সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে পারছে না। রপ্তানিমুখী ও উচ্চ রপ্তানি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তবে ঋণখেলাপি, অর্থপাচার, জালিয়াতি, ঋণ তছরুপ বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে না।

স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংককে ৪ শতাংশ হারে সুদ পরিশোধ করবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ শতাংশ। ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস সুদ পরিশোধে ছাড় থাকবে।

একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা শিল্পগোষ্ঠী সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। প্রতিটি ঋণের মেয়াদ হবে এক বছর, তবে সন্তোষজনক কার্যক্রম ও তহবিলের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে নবায়নের সুযোগ থাকবে।

এই অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাস বিল, কাঁচামাল সংগ্রহ, রপ্তানি আদেশ বাস্তবায়ন এবং অন্যান্য উৎপাদন ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে। তবে বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয়ের জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অপব্যবহার বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতা ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ঋণ আদায় ও ঝুঁকির সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বহন করতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft