কুড়িগ্রামে ৬৫ বছরের আইনি লড়াই শেষে পৈতৃক জমি ফিরে পেয়ে স্বস্তি পরিবারের
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২:৫৪ পিএম

মাত্র ১৩৫ টাকায় বন্ধক রাখা ৯ শতক জমি নিয়ে শুরু হয়েছিল বিরোধ। দীর্ঘ ৬৫ বছরের আইনি লড়াই, মামলা-আপিল ও নানা জটিলতা পেরিয়ে অবশেষে নিজেদের পৈতৃক জমির দখল ফিরে পেয়েছে কুড়িগ্রামের একটি পরিবার।

গত বুধবার (১৩ মে) বিকেলে কুড়িগ্রাম সদরের পৌর এলাকার চরুয়া পাড়ায় আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী বাদীপক্ষকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলাম।

জানা যায়, পঞ্চাশের দশকে আলেপ উদ্দিন তার ফুফাতো ভাই বছির উদ্দিনের কাছে ১৩৫ টাকায় ৯ শতক জমি বন্ধক রাখেন। পরে বন্ধকি টাকা পরিশোধ করা হলেও জমি ফেরত দেননি বছির উদ্দিন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের বিরোধ বাড়তে থাকলে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের হস্তক্ষেপে জমির জিম্মা দেওয়া হয় টাউন চেয়ারম্যানের কাছে। পরে চেয়ারম্যান স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে জমির দেখভালের দায়িত্ব দেন।

পরে ১৯৬১ সালে জমির আইনি দখল ফিরে পেতে আদালতে মামলা করেন আলেপ উদ্দিন। তবে মামলার নিষ্পত্তির আগেই ১৯৭২ সালে তিনি মারা যান। এরপর তার ছেলে আব্দুস সাত্তার গং মামলার দায়িত্ব নেন এবং নিম্ন আদালত থেকে উচ্চ আদালত পর্যন্ত দীর্ঘ আইনি লড়াই চালিয়ে যান।

আরও পড়ুন : সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী রাব্বিসহ ৩ জন গ্রেফতার, বিপুল পরিমাণ মাদক ও বিস্ফোরক উদ্ধার

অবশেষে আদালতের চূড়ান্ত আদেশের পর বুধবার বিকেলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি সার্ভেয়ার ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে নালিশি জমির দখল বাদীপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় মৃত বছির উদ্দিনের ওয়ারিশরা উপস্থিত না থাকলেও জমির জিম্মাদাররা ঘটনাস্থলে ছিলেন।

দখল বুঝিয়ে দেওয়ার সময় ঢাকঢোল বাজানো ও লাল পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ দৃশ্য দেখতে এলাকার উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন।

মামলার বাদী আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমার বাবার শুরু করা লড়াই আমরা চালিয়ে গেছি। দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতা সহ্য করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালত আমাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন। বাবা বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন।”

তিনি জানান, মামলাটি ৯ শতক জমি নিয়ে হলেও বর্তমানে ৬ দশমিক ৬৮ শতক জমির দখল বুঝে পেয়েছেন তারা। বাকি অংশ দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পৈতৃক জমি ফিরে পাওয়ায় আব্দুস সাত্তারসহ তার চার ভাই ও এক বোনের পরিবারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জ/দি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft