তদবিরেও ছাড় মিলবে না চাঁদাবাজদের, কঠোর অবস্থানে ডিএমপি
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১:২৭ পিএম

দেশজুড়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। শীর্ষ পর্যায় থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা আসার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন সারাদেশে সংগঠিতভাবে তালিকা ধরে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গ্রেফতারের পাশাপাশি চাঁদাবাজদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কও চিহ্নিত করা হয়েছে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে চলমান যৌথ অভিযানে মাঠে নেমেছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন ইউনিট। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের সব মহানগর, রেঞ্জ ও জেলা পর্যায়ে তালিকা হালনাগাদ করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক পাঁচ দিনে মোট ৫৪৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চাঁদাবাজির অভিযোগেই গ্রেফতার হয়েছে ১৭৩ জন। ডিএমপি সূত্র বলছে, গ্রেফতারদের মধ্যে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ ৩৫ জন এবং তালিকার বাইরে আরও ৪৮ জন রয়েছেন। এছাড়া সন্ত্রাসী, ছিনতাইকারী ও ডাকাতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৬৪ জনকে।

আরও পড়ুন : গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে দেশ বার বার ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়েছে : দুদু

ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, তদবিরের মাধ্যমে কোনো চাঁদাবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলবে, চাঁদাবাজদের অন্য কোনও পরিচয় বিবেচনায় আনা হবে না। এমনকি তাদের ছাড়াতে কেউ তদবির করলে তাকে চক্রের অংশ হিসেবে ধরা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে জানানো হয়, চাঁদাবাজ, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রবিরোধী এই অভিযান চলমান থাকবে। সরকারি পর্যায়ে তৈরি অ্যাকশন প্ল্যান অনুযায়ী সারাদেশে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, র‌্যাবের একটি প্রতিবেদনে দেশে প্রায় ৬৫০ জন ‘চাঁদাবাজ গডফাদার’ চিহ্নিত হয়েছে। এদের অধিকাংশের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে জটিলতা তৈরি করছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৪ হাজার চাঁদাবাজের প্রাথমিক তালিকাও তৈরি করা হয়েছে, যা সময়ের সঙ্গে আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আলোচনায় এসেছে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল কাইয়ুমের গ্রেফতার ইস্যুও। অভিযোগ রয়েছে, তিনি শাসনগাছা বাস টার্মিনাল এলাকায় চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত। যদিও গ্রেফতারের ১২ ঘণ্টা পর মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে বিষয়টি সরকারের কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন : রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপ কমাতে যে উদ্যোগ নিল সরকার

অন্যদিকে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় চাঁদাবাজির একটি বড় নেটওয়ার্কের তথ্যও উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, এখানে দেড় শতাধিক স্পট থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশনসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান ফুটপাত দখল করে পরিচালিত হচ্ছে। এসব দোকান থেকে দৈনিক ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এসব এলাকা থেকে মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা পর্যন্ত অবৈধ অর্থ আদায় হয়, যা বিভিন্ন স্তরে ভাগ হয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি, সন্ত্রাসী চক্র ও কিছু প্রভাবশালীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে এই নেটওয়ার্কে।

সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এখন আর কেবল অভিযান নয়- এটি একটি ধারাবাহিক ও কাঠামোগত দমন প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে, যেখানে তালিকা ধরে ধাপে ধাপে নেটওয়ার্ক ভাঙার চেষ্টা চলছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft