প্রকাশ: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১:০৮ পিএম

নাটোরের গুরুদাসপুরে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালটিতে মোট ২০টি সিসি ক্যামেরা থাকলেও বর্তমানে সচল রয়েছে মাত্র ৯টি। বাকি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গা সিসিটিভি নজরদারির বাইরে রয়ে গেছে।
বিশেষ করে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো সার্ভিসিংয়ের অভাবে অকেজো। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো-শিশু ওয়ার্ডে কোনো সিসি ক্যামেরাই নেই। এছাড়া জরুরি বিভাগসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোও পর্যাপ্ত নজরদারির আওতায় না থাকায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বাড়ছে আতঙ্ক।
এই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই গত শনিবার (২ তারিখ) চিকিৎসা নিতে আসা এক রোগীর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে গেলে কর্তৃপক্ষ তা দিতে ব্যর্থ হয়, কারণ অধিকাংশ ক্যামেরাই অচল।
ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, সিসি ক্যামেরা নষ্ট থাকায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে তাদের সঙ্গে আনা মূল্যবান সামগ্রীও চুরির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিষয়টি একাধিকবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তাদের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতালের সব ওয়ার্ড ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা সচল করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. এ.এস.এম. আলমাস বলেন, আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দরখাস্ত করেছি, যদি অনুদান পায় তাহলে চাহিদান অনুযায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থান গুলোতে সি সি ক্যামেরা বসানো হবো অথবা নির্দেশনা পেলে আমার হসপিটালের অর্থায়নে ক্যামেরা কিনে বসাবো, একি সঙ্গে রোগীদের নিরাপত্তার জন্য গতকাল গুরুদাসপুর উপজেলা জরুরী আইন-শৃঙ্খলা মিটিং হয়েছে সেখানে হসপিটালের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আনসার সদস্য থাকবে হসপিটালে, আশা করছি সকল সমস্যার সমাধান হবে খুব দ্রুত সময়।
এদিকে স্থানীয়দের মতে, একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকাটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।