প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:০০ পিএম

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, সংবাদ মাধ্যম হচ্ছে গণতন্ত্রের চোখ। এ চোখ দিয়েই সরকার সমাজের অনেক ভেতর পর্যন্ত দেখতে পায়। সংবাদ মাধ্যম না থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্র অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। শনিবার দুপুরে সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সভা উদ্বোধন করে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে সাধারণ সভায় অন্যদের মধ্যে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, দফতর সম্পাদক আবু বকর, সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম, মামুন ফরাজী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, গণতন্ত্রের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব দিতে হলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদ মাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিলে স্বৈরাচারের জন্ম হবে না। রাষ্ট্র পথ হারাবে না।
তিনি বলেন, মিডিয়া সরকারসহ বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সমালোচনা করে তাদের আরও সংশোধনের সুযোগ করে দেয়। যে সমাজে মানুষ নিজের মনের কথা নিঃশঙ্কচিত্তে উচ্চারণ করতে পারে না, সে সমাজে বিবেকের দিশাও হারিয়ে যায়। সমাজে মানবিধ মূল্যবোধ ভুলূণ্ঠিত হয়। তাই বাংলাদেশের সংবিধান একটি পেশাকে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার অবাধ সুযোগ দিয়েছে। সাংবাদিকরা ক্ষমতাকে চোখে চোখে রাখেন। বলতে দ্বিধা নেই এর কোনোটিই এখন হচ্ছে না। সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। একজন সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সমাজের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা। সত্য খুঁজে বের করা এবং সত্যকে রক্ষা করা।
তাই সাংবাদিকদের যেমন সাহসী হতে হয়, তেমনি সত্যনিষ্ঠ ও নীতির প্রশ্নে আপসহীন এবং ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল থাকতে হয়। সততা, নির্ভুলতা এবং পক্ষপাতহীনতা এই তিন হলো সাংবাদিকতার মূলভিত্তি। তাই সংবাদ হতে হবে শতভাগ নির্ভুল ও শুদ্ধ। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের গণমাধ্যম তার গণমুখী চরিত্রটা হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে পতিত সরকারের সময় বাংলাদেশের মিডিয়ায় সাংবাদিকতা বলতে কিছুই ছিল না। সে সময় আমাদের সাংবাদিকদের অনেকে দলদাসে পরিণত হয়েছিলেন। সম্পাদকদের কেউ কেউ অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। মনে রাখবেন জনগণ দাস সাংবাদিকতাকে ঘৃণা করে। অসহায় আত্মসর্মপণ সম্পাদকদের মানায় না। মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়ানোর সক্ষমতা না থাকলে তার সম্পাদকের চেয়ারে বসা উচিত নয়।
সাংবাদিকদের এ নেতা বলেন, পতিত সরকারের সময় সাংবাদিকতার এমন অধঃপতন হয়েছিল যে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশ গণশত্রুতে পরিণত হয়। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলে তারা নিজ থেকে পালাতে শুরু করেন। কেউ কেউ পালাতে গিয়ে গ্রেফতার হন। অনেক সাংবাদিক পদ-পদবি হারিয়েছেন।
এগুলো দুঃখজনক ও অস্বাভাবিক বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণমাধ্যমকে তারা গণআস্থার জায়গায় ধরে রাখতে পারেননি। সরকারকে তুষ্ঠ করতে গিয়ে তারা জনআকাঙ্ক্ষার কথা ভুলে গিয়েছিলেন। এখানে গণমাধ্যম কর্মীদের নৈতিক পরাজয় ঘটে। অনেক সাংবাদিক অনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। অনেকে সংবাদ মাধ্যমের মালিক হয়েছেন। সঙ্গে গাড়ি বাড়িও। তারা গণশত্রুদের মুখোশ উন্মোচন না করে গণশত্রুদের দালালি করেছেন। মনে রাখবেন সততার সঙ্গে সাংবাদিকতা করলে পালাতে হয় না। দুঃসময়ে জনগণ তাদের পাশে থাকে।
জ/উ