ডিসেম্বরের মধ্যে বিজেএমসির লিজ মিলগুলোতে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থান
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১:২৭ পিএম

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) লিজ দেওয়া মিলগুলোতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। বর্তমানে লিজ প্রক্রিয়াধীন পাটকলগুলো চালু হলে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। বিজেএমসির মহাব্যবস্থাপক মো. মামনুর রশিদ এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিজেএমসির ২৫টি পাটকলের মধ্যে ২০টি লিজ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৪টি মিল ইতোমধ্যে লিজ দেওয়া হয়েছে। আরও ৬টি মিল লিজ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ৯টি মিলে দৈনিক প্রায় ১২০ মেট্রিক টন পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। এর বেশির ভাগই বিদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

তারা জানান, বর্তমানে এসব মিলে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে লিজ দেওয়া সব মিল চালু হলে কর্মসংস্থান বেড়ে প্রায় ২০ হাজারে পৌঁছাবে।

আরও পড়ুন : সৌদি পৌঁছেছেন ৩২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি হজযাত্রী

মো. মামনুর রশিদ বলেন, বিজেএমসিকে একটি কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।  বর্তমানে নিজস্ব আয় বাড়ানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা গেছে।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিজেএমসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চার মাসের বেতন বকেয়া ছিল। কোনো বোনাস দেওয়া হতো না। বিমা সুবিধাও ছিল না। ফলে প্রায় সব সময় প্রতিষ্ঠানটিতে অসন্তোষ লেগেই থাকত।

তিনি আরও বলেন, এ অসন্তোষ দূর করতে প্রথমে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা ও বোনাস নিশ্চিত করা হয়। কারণ নিয়মিত বেতন দেওয়া সম্ভব হলে অসন্তোষ এমনিতেই দূর হয়ে যায়।

আরও পড়ুন : গ্যাসচালিত পরিবহনে বেশি ভাড়া নিলে ব্যবস্থা: সড়কমন্ত্রী

মো. মামনুর রশিদ বলেন, প্রতি মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে প্রায় সাড়ে ১১ কোটি টাকা প্রয়োজন হয়। বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১২ কোটি টাকা।

বিজেএমসির কর্মকর্তারা জানান, একসময় এই ব্যয়ের বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির আয় ছিল মাত্র ১ কোটি টাকা। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে সরকার ২৪ কোটি টাকা সহায়তা দেয়। সেই অর্থ দিয়ে দুই মাসের বেতন পরিশোধ করা হয়। তবে শুধু সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব নয় বিবেচনায় নিয়ে নিজস্ব আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

তারা আরও জানান, চলতি মাসে বিভিন্ন আয়বর্ধক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে। যা মাসিক ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক।

আরও পড়ুন : দক্ষ ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী

মামনুর রশিদ জানান, বিজেএমসির মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থানে ৩০০টি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫০টি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। বাকি ৫০টি ভাড়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। আরও দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজধানীর করিম চেম্বার এবং চট্টগ্রামের সাত্তার চেম্বার থেকে আগে ১২ লাখ করে মোট ২৪ লাখ টাকা পাওয়া যেত। বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলে বিজেএমসির মালিকানাধীন একটি পেট্রলপাম্প রয়েছে। আগে এটি ভাড়ায় চালানো হতো। এখন বিজেএমসি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় তা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজেএমসি সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির মালিকানাধীন বিভিন্ন মিলে পড়ে থাকা স্ক্র্যাপ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়েছে। ওই অর্থের মুনাফা দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্ন ভাতা পরিশোধ করা হচ্ছে। চলতি বছরের বৈশাখী ভাতাও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : ভোগান্তি কমতে শুরু করেছে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে

সূত্র আরও জানায়, বিজেএমসির অনেক জায়গা আগে বেহাত হয়ে গিয়েছিল। সেগুলো উদ্ধার করে পুনরায় দখল বুঝে নেওয়া হয়েছে। আগে কয়েকটি মিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো পিএফ তহবিল ও বীমা সুবিধা ছিল না। এখন তা চালু করা হয়েছে।

বিজেএমসি জানায়, উৎপাদন খাতের প্রায় ১৬শ’ একর জমির মধ্যে সরকার ৪০০ একর জমি অধিগ্রহণ করেছে। রাজধানীর গুলশান ও নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুটমিলের জমিও সরকার নিয়ে নিয়েছে।

বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের অধীন ২৫টি পাটকলের উৎপাদন কার্যক্রম ২০২০ সালে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরে ২০টি মিল লিজ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ১৪টি মিল ইতোমধ্যে লিজ দেওয়া হয়েছে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft