
সিডনির পাঞ্চবোল এলাকায় অনুষ্ঠিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে গ্লেনকোয়ারি ইসলামিক এডুকেশন অ্যান্ড ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (জিআইইওয়াইডিসি) প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই তহবিল সংগ্রহ ও ডিনার অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির এক হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন।
ডায়মন্ড ভেন্যুস হলে অনুষ্ঠিত এই তহবিল সংগ্রহের আয়োজনের সঞ্চালক ছিলেন উকবা কবির। হাফেজ মাওলানা শেখ আবু হুরায়রাহ আল আজহারীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরপরই স্থানীয় আলেম শায়খ হামিদুল্লাহ এবং গ্যালিপলি টার্কিশ কালচার ফাউন্ডেশন ও গ্যালিপলি মসজিদের প্রেসিডেন্ট ড. আবদুর রহমান আসারপোগলু বক্তব্য রাখেন।
তারা মসজিদ প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব, তরুণদের জন্য একটি নিরাপদ ও শিক্ষামূলক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা এবং কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে ড. মো. সিরাজুল খান ও শামীম শামসুজ্জামান বলেন, গ্লেনকোয়ারি এলাকায় পরিকল্পিত এই প্রকল্পটি শুধু একটি উপাসনালয় হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি শিক্ষা কার্যক্রম, নৈতিক উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন প্রশিক্ষণমূলক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, গ্লেনকোয়ারি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে মুসলিম কমিউনিটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে- গত কয়েক বছরে প্রায় ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়া এই অঞ্চলটি বর্তমানে অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল কমিউনিটি। কিন্তু এই বৃদ্ধির তুলনায় এখনো প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব রয়েছে। নিয়মিত নামাজের জন্য পর্যাপ্ত ও নির্ধারিত স্থান নেই, তরুণদের জন্য আলাদা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্র নেই, এবং নারী ও অন্যান্য কমিউনিটি সদস্যদের জন্য উপযোগী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কোনো নির্দিষ্ট স্থানও নেই।
এই প্রেক্ষাপটে, একটি পরিকল্পিত মসজিদ ও ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার প্রতিষ্ঠা শুধু ধর্মীয় প্রয়োজনই পূরণ করবে না, বরং পুরো কমিউনিটির সামাজিক, শিক্ষামূলক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে ইসলামিক বক্তা শায়খ ওমর আল বান্না দানের গুরুত্ব এবং স্থায়ী কল্যাণমূলক কাজের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বিভিন্ন স্তরে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান-১ লাখ ডলার থেকে শুরু করে ছোট অঙ্কের দান পর্যন্ত। এছাড়া উপস্থিতদের উৎসাহিত করতে জমির প্রতীকী অংশীদারিত্বের উদ্যোগ ঘোষণা করা হয়, যাতে দাতারা নিজেদের বা তাদের পিতা-মাতার নামে অবদান রাখতে পারেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে উপস্থিত অতিথিরা ব্যক্তিগতভাবে ও পারিবারিকভাবে অনুদান প্রদান করেন।
আয়োজকরা জানান, প্রাথমিকভাবে প্রায় ১০ লাখ ডলার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কিছু নারী অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিগত গহনা দান করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই আয়োজনকে সফল করতে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করেছেন, যা অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হোসাইন কবির এবং সৈয়দ জিয়া উদ্দিন আহমেদের পরিচালনায় একটি সফল নিলাম অনুষ্ঠিত হয়, যা তহবিল সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখে।
প্রকল্পটির সম্ভাব্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার। আয়োজকদের মতে, এই তহবিল প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপে সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে আরও অর্থ সংগ্রহ কার্যক্রম চালানো হবে।
অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা অংশগ্রহণকারী, দাতা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, এ ধরনের উদ্যোগ কমিউনিটির মধ্যে সহযোগিতা ও ঐক্য আরও দৃঢ় করে।
জ/উ