প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:১১ পিএম

সারাদেশে পেয়াজ উৎপাদনে তৃতীয়তম জেলা রাজবাড়ী। দেশে মোট পেঁয়াজের চাহিদার ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ জোগান দেয় এই জেলা। বিশেষ করে বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালী এলাকায় বেশি পেয়াজ আবাদ করা হয়। চলতি মৌসুমে বাজারে আসতে শুরুকরেছে হালি পেয়াজ, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না কৃষকরা। জেলার বালিয়াকান্দি, সোনাপুর, কোলারহাট বাজারে দেখা যায় পেয়াজ প্রতি মন বিক্রি হচ্ছে ৮শ থেকে এক হাজার টাকা এতে করে লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার পেঁয়াজ চাষিরা। অনেকে বলছেন পেঁয়াজের ন্যায্য দাম না পেলে আগামী মৌসুমে আমরা আর পেয়াজ আবাবদ করবো না। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে এবছর রাজবাড়ী জেলাতে ৩৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে হালি পেয়াজ চাষ হয়েছে।
বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর এর কৃষক মো সাজ্জাদ বলেন আমাদের একপাক্ষি জমিতে পেঁয়াজ আবাদে বিশ থেকে পচিশ হাজারের বেশি খরচ হয়। লেবার এর দাম বেশি সার কীটনাশক এর দাম বেশি আমরা যে বাজারদর পাচ্ছি ৮শ থেকে ৯শ যদি আমাদের ১৫শ থেকে দুই হাজার টাকা প্রতিমন বাজার দর দেয় তাহলে আমাদের কিছুটা লাভ থাকবে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পান কিনা প্রশ্ন তিনি বলেন আমরা কোন সহযোগিতা পাই না কৃষি অফিস থেকে।
অপর চাষি কামরুল চিশতি আক্ষেপ করে বলেন আপনারা দেখতে আসছেন কৃষকের কি অবস্থা আমাদের অবস্থা কেরাসিন তার মানে ৮শ থেকে ১ হাজার টাকা মন পেয়াজ আমি দশ পাখি জমিতে এবার পেয়াজ লাগাইছি যে পরিমান খরচ হয়ছে এখন পেয়াজ বিক্রি করে লাভ ত দূরের কথা আসল টাকাই উঠছে না। এত পরিশ্রম করে যদি ন্যাজ্য দাম।যদি না পাই তাহলে আগামী মৌসুমে পেঁয়াজ চাষ করবো না। চাষি মো হারুন বলেন বাজারে যে দাম আমরা পাচ্ছি তাতে আমরা পথে বসেছি, সরকারের কাছে দাবি জানাই দাম বারানোর বিষয়ে উদ্যোগ নিতে।
পেয়াজ দাম নিয়ে পাইকারি আড়তদাররা বলেন বলেন গত সপ্তাহ থেকে পেয়াজের দাম এখন ১ থেকে দেড়শো টাকা কম কারন কৃষক পেয়াজ মাঠ থেকে তুলে আনছে বাজারে তাই পেয়াজের প্রচুড় আমদানি। আগামীতে পেয়াজের দাম আরো কমবে বাড়ার কোন সম্ভাবনা নাই।
এবিষয়ে রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসাণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. মো শহিদুল ইসলাম বলেন এবছর রাজবাড়ীতে ৫লক্ষ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন পেয়াজ উৎপাদন লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে। এখন যেহেতু উত্তোলন মৌসুম আমাদের দেশে সরবরাহ বেশি থাকে চাহিদার তুলনায় এজন্য পেঁয়াজের দাম কম থাকে। পেয়াজের দাম যদি ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা মন হতো তাহলে কৃষক লাভবান হতো। উৎপাদনের কয়েকদিন দাম কমথাকলেও আশা করি পরবর্তীতে কৃষক বেশি দাম পাবে।
জ/উ