ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল করবে ট্রাম্প?
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ পিএম

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশিতে ভেসে থাকা মাত্র ৯ বর্গমাইলের একটি প্রবাল দ্বীপ। নাম খার্গ। ইরান থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ক্ষুদ্র ভূখণ্ডটিই এখন তেহরান-ওয়াশিংটন যুদ্ধের ভাগ্যনির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশই হয় এই দ্বীপের টার্মিনাল থেকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এখন এই দ্বীপের ওপর। যুদ্ধের চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও ইরান যেভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, তাতে ট্রাম্পের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। এই অচলাবস্থা ভাঙতে খার্গ দ্বীপ দখল করাকেই হয়তো ট্রাম্প ‘সেরা বিকল্প’ হিসেবে দেখছেন।

খার্গ দ্বীপ দখলের চিন্তা ট্রাম্পের জন্য নতুন কিছু নয়। ১৯৮৮ সালে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, আমি ইরানের ওপর কঠোর হতাম। তারা আমাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে হারিয়ে দিচ্ছে। আমাদের কোনও লোক বা জাহাজে একটি গুলি লাগলে আমি খার্গ দ্বীপে হানা দিতাম। আমি সেখানে গিয়ে দ্বীপটি দখল করে নিতাম।

তবে বর্তমানে ট্রাম্পের অবস্থান কিছুটা রহস্যময়। গত সোমবার তিনি ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনার কথা বলে বোমা ফাটিয়েছিলেন। কিন্তু তিন দিন পরই আবার সুর বদলে ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বলেন, “আমি জানি না কোনো চুক্তি হবে কি না। আমি চুক্তির জন্য মরিয়া নই। আমার কিছু যায় আসে না! আমাদের আরও কিছু লক্ষ্যবস্তু আছে যা আমরা যাওয়ার আগে আঘাত করতে চাই।

বিশ্লেষকদের ধারণা, সেই লক্ষ্যবস্তুগুলোর তালিকায় শীর্ষে আছে খার্গ।

ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট মনে করেন এটাই মোক্ষম সময়। তিনি লিখেছেন, এই যুদ্ধের কৌশলগত দাবার ছকে খার্গ দ্বীপ হলো পরবর্তী ঘুঁটি। এটিই যুদ্ধের জয়-পরাজয় নির্ধারণ করতে পারে।

খার্গ দ্বীপ দখলের জন্য বড় আকারের সৈন্যবাহিনী প্রয়োজন। ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ১ হাজার প্যারাট্রুপার এবং ৫ হাজার মেরিন সেনাকে উপসাগরের দিকে পাঠিয়েছে। ইউএসএস ত্রিপোলি নামক যুদ্ধজাহাজে করে আসা এই মেরিন সেনারা খার্গ অভিযানে মূল ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে অভিযানটি সহজ হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর তথ্যমতে, ইরান এই দ্বীপে দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। সম্প্রতি সেখানে কাঁধে বহনযোগ্য বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। ইয়োভ গ্যালান্ট সতর্ক করে বলেছেন, এটি আধুনিক যুদ্ধের অন্যতম কঠিন অপারেশন। নরম্যান্ডি ল্যান্ডিংয়ের মতো এখানেও জল, স্থল ও আকাশপথের নিখুঁত সমন্বয় প্রয়োজন।

দ্বীপ দখল করার চেয়ে তা ধরে রাখা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেশি চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। ইরান তার রকেট আর্টিলারি এবং আত্মঘাতী ড্রোনের নিশানা বানাতে পারে এই দ্বীপকে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ব্যবহৃত শাহেদ ড্রোন এখন ইরানের বড় অস্ত্র। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়া এই মাসেই ইরানকে বিপুল পরিমাণ ড্রোনের চালান পাঠাতে শুরু করেছে। সস্তা কিন্তু কার্যকর এই ড্রোনগুলো দিয়ে মার্কিন সেনাদের ওপর একঝাঁক ড্রোনের অতর্কিত হামলা চালাতে পারে তেহরান।

অনেকে মনে করেন খার্গ দ্বীপ আজ দখল করলেই ইরানের অর্থনীতি কাল ধসে পড়বে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা ভিন্ন মত পোষণ করছেন। ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজ-এর গবেষক রাজ জিমত বলেন, “ইরান ২০১৮ সালেও রফতানি কমে যাওয়ার পর টিকে ছিল। খার্গ দ্বীপ দখলের অর্থনৈতিক প্রভাব বুঝতে হয়তো কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লাগতে পারে।”

ট্রাম্প যদি শুধু তেল রফতানি বন্ধ করতে চান, তবে দ্বীপ দখল না করে সমুদ্রপথে ইরানি জাহাজগুলো আটকে দেওয়া বা দূরপাল্লার বিমান হামলা চালিয়ে স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে দেওয়া অনেক কম ঝুঁকিপূর্ণ বিকল্প হতে পারে।

ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্র্যাসিজ (এফডিডি)-এর সিনিয়র অ্যাডভাইজার রিচার্ড গোল্ডবার্গ মনে করেন, খার্গ দ্বীপ দখল করে শুধু একটি চুক্তিতে আসা হবে ঐতিহাসিক ভুল।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft