কাপ্তাই হ্রদে উৎপাদন কমেছে বড় মাছের
নিউজ ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ১:২৩ পিএম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ হ্রদ কাপ্তাইয়ে রুই জাতীয় মাছের উৎপাদন কমে গেছে আশঙ্কাজনক হারে। তবে বেড়েছে ছোট আকারের মাছের পারিমাণ। দেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম এই হ্রদ শুধু পর্যটনের আকর্ষণই নয়, মিঠা পানির মাছের বিশাল ভাণ্ডার হিসেবেও পরিচিত। এই হ্রদের মাছের ওপর নির্ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করেন হাজারো জেলে পরিবার।

প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই হ্রদে নৌকা নিয়ে নামেন জেলেরা। রাতভর জাল ফেলে ভোরে তারা ফিরেন মাছ নিয়ে। রুই, কাতলা, মৃগেল, কালিবাউশসহ নানা প্রজাতির মাছ উঠছে জালে। এসব মাছ স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকা চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।

তবে ব্যবসায়ী ও জেলেরা বলছেন, আগের মতো বড় মাছ এখন খুব একটা ধরা পড়ছে না। বর্তমানে হ্রদে বেশি ধরা পড়ছে ছোট আকারের মাছ। বড় মাছ কমে যাওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাশিত লাভও পাচ্ছেন না তারা। হ্রদের মাছ আহরণ ও বিপণন তদারকি করছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন। সংস্থাটির সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি মৌসুমে মাছ বিক্রি থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় আগের তুলনায় বেড়েছে।

আরও পড়ুন : ঈদ শুধু নতুন পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয়; উৎসবের রঙ ছড়িয়েছে গৃহসজ্জায়ও

তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে হ্রদ থেকে প্রায় ৮ হাজার ২০০ মেট্রিক টন মাছ আহরণ করা হয়, যার বিপরীতে সরকারের রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ১৬ কোটি টাকা। আর চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের একই সময়ে মাছ আহরণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টনে। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি টাকা।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, হ্রদে নিয়মিত পোনা অবমুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সময় মাছ ধরা বন্ধ রাখার কারণে মাছের উৎপাদন বাড়ছে, যার ফলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হ্রদের পরিবেশ রক্ষা, অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধ এবং নিয়ম মেনে মাছ আহরণ নিশ্চিত করা গেলে কাপ্তাই হ্রদ দেশের মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে এবং ভবিষ্যতে বড় মাছের সংখ্যাও আবার বাড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে খরস্রোতা কর্ণফুলীর ওপর বাঁধ দিয়ে গড়ে তোলা হয় কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। ফলে ৭০০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় এক বিশাল কৃত্রিম হ্রদ। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন হ্রদটি লিজ নিয়ে ১৯৬৪ সাল থেকে এখান থেকে বাণিজ্যেক ভিত্তিতে মৎস্য আহরণ শুরু করে। এ হ্রদে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন প্রায় ২০ হাজারের বেশি জেলে।

জ/উ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আক্তার হোসেন রিন্টু
বার্তা ও বাণিজ্যিক বিভাগ : প্রকাশক কর্তৃক ৮২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক (৩য় তলা) ওয়্যারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা-১২১৭।
বার্তা বিভাগ : +8802-58316172, বাণিজ্যিক বিভাগ : +8802-58316175, E-mail: info@jobabdihi.com , contact@jobabdihi.com
কপিরাইট © দৈনিক জবাবদিহি সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft